
জুমবাংলা ডেস্ক : হাসেম ফুড লিমিটেড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দোষীদের সাজা পেতে হবে বলে মন্তব্যে করেছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক)। রোববার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকার হাসেম ফুড কারখানা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, সত্য ঘটনা উদঘাটনের জন্য জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও কারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৩টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ তদন্ত প্রতিবেদন আসলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের ৪ দিনের যে রিমান্ডে আনা হয়েছে, এতেও ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে। আর যাতে কোনো কারখানায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে সে ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেছেন, শুনেছি এই ভবনের একটি ফ্লোরে শ্রমিকদের তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তালাবদ্ধের ঘটনা উদঘাটন করে এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৫২ শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মির্জা আজম বলেন, হাসেম ফুড কারখানায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে ৫২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয়। তারপরও এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে তিনটি টিম গঠন করেছেন। সেই কমিটির তদন্ত অনুযায়ী যারা দোষী হবে তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন।
তিনি বলেন, যারা নিহত হয়েছেন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য ২ লাখ টাকা ও আহতদের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরও আহত শ্রমিকদের আরও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য বিভিন্ন আইনানুগ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় যারাই সম্পৃক্ত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অনুমোদন নিয়েই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। এক্ষেত্রে যদি কারও দুর্নীতি থাকে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
মির্জা আজম বলেন, আমি শোকসন্তুপ্ত পরিবারের জন্য সমবেদনা জানাই। এ কারখানায় কীভাবে শিশু শ্রমিকরা কাজ করতে এলো, কারা এখানে শিশু শ্রমিকদের কাজ করতে নিয়ে এলো তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য আনোয়ার হোসেন শাহাবুদ্দিন ফরাজী, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়াসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৯ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে এসেছে আগুন। তবে এ সময়ের মধ্যে ঝরে গেছে ৫২টি প্রাণ। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


