Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : সম্প্রতি বাংলাদেশে সরকারি খরচে হজ যাওয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে৷ জনগণের করের পয়সায় কেন যাচ্ছেন এমন প্রশ্ন অনেকের মুখে৷ এ অবস্থায় আশেপাশের কয়েকটি দেশে কী অবস্থা তা একটু দেখার চেষ্টা করা যাক৷

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসুল্লির হজব্রত পালন করার কথা রয়েছে৷ এর মধ্যে কয়েকশ’ যাচ্ছেন সরকারি খরচে৷ এরা কেউ ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসুল্লি ও কেউ আলেম ওলামা৷ এর বাইরে প্রশাসনিক দল, কারিগরি দল, চিকিৎসক দল ও চিকিৎসকদের সহায়তাকারী দল নানা ধরনের ব্যবস্থায় যাচ্ছেন এই লোকগুলো৷ তুলনামূলক হিসেবে সংখ্যাটি কম দেখালেও এ নিয়ে আলোচনার শেষ নেই৷ বিশেষ করে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একটি দল নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে ওঠে, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন খোদ সিইসি কে এম নুরুল হুদা৷

এত কিছু দেখে আমার আগ্রহ জাগল একটু খুঁজে দেখি আমাদের আশেপাশের দেশগুলোতে হজ ব্যবস্থাপনার চিত্রগুলো কেমন৷

চলুন দেখা যাক৷ বিশ্বের সবচেয়ে বড় হজ কোটা ইন্দোনেশিয়ানদের জন্য৷ এ বছর সে দেশের দুই লাখ ২১ হাজার জন হজ করার সুযোগ পাচ্ছেন৷ ইন্দোনেশিয়ার কলিগদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, সেদেশ থেকে সরকারি খরচে হজে পাঠানোর নজির তাদের জানা নেই৷ তবে হজ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে আবার হজযাত্রীদের ভর্তুকি দিয়ে থাকে সরকার৷ সেটা কেমন?

এ বছর হজে যেতে তাদের খরচ ধরা হয়েছে ৭২ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়াহ ( প্রায় পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার)৷ এর মধ্যে কেউ চাইলে ৩৫ মিলিয়ন রুপিয়াহ পরিশোধ করে ২৭ মিলিয়ন ভর্তুকি ও ১০ মিলিয়ন লাভ নিয়ে হজে যেতে পারবেন৷ তবে সেজন্য অপেক্ষা করতে হবে ১০ বছর৷ অর্থাৎ আজ যিনি ২৫ মিলিয়ন দেবেন, দশ বছর পর আর ১০ মিলিয়ন পরিশোধ করে হজে যেতে পারবেন৷ আর দশ বছর আগে যিনি প্রাথমিক অর্থ পরিশোধ করেছেন তিনি আজ আরেকজনের দেয়া ২৫ মিলিয়ন থেকে ভর্তুকি পাবেন৷

পাকিস্তানের কলিগরা জানালেন, সে দেশে এর আগে সরকারি খরচে কিছু মানুষ হজে গিয়েছেন এমন উদাহরণ আছে৷ তবে তারা সাধারণ মুসুল্লি নন৷ আর সরকার যে ভর্তুকি দিত তা এবার বন্ধ করে দিয়েছে৷ তাই যেখানে গত বছর দুই লাখ ৬০ হাজার থেকে দুই লাখ ৭০ হাজারে লোক গেছে হজে, সেখানে এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার লাখের বেশি৷ তবে সরকার আবাসন বাবদ কিছু টাকা ফেরত দেবার কথা বলেছে৷ সেখানেও এই বিতর্ক বার বার এসেছে যে, যারা সামর্থ্যবান তাদের অর্থের যোগান কেন সরকার দেবে?

এদিকে, আফগানিস্তানে কেউ হজে যেতে চাইলে তাকে প্রথমে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হয় সরকারের হজ ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট বিভাগে৷ সেখানে কয়েকটি শর্ত পূরণ হলেই কেবল নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করা হয়৷ শর্তগুলোর মধ্যে ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে ‘ফিট’ কি না এবং আর্থিকভাবে সক্ষম কি না তা দেখা হয়৷ ডয়চে ভেলের আফগানিস্তানের সহকর্মীরা জানালেন, সে দেশে রাষ্ট্রীয় খরচে কোনো সরকারি কর্মচারি হজ করেন না৷ তবে প্রতি মন্ত্রণালয়ের তিনজনকে প্রতি বছর নিবন্ধনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেয়া হয়৷ অর্থাৎ তারা নিজ খরচে নিবন্ধনের প্রক্রিয়ার বাইরে হজ করতে পারেন৷

আফগান কলিগরা আরো বললেন, সরকারি অর্থে কেবল ‘শহীদ’দের পরিবারের সদস্যদের পাঠানো হয়৷ জঙ্গিদের বোমায় নিহত সাধারণ মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিবারের সদস্যেরা এর আওতায় পড়েন৷ বছরে ছয়শ’র মতো লোক যান এ কোটায়৷ তবে সম্প্রতি এই পরিবারের কেউ কেউ হজে না পাঠিয়ে বরং সেই অর্থের অন্তত অর্ধেক তাদের পরিবারকে দেয়ার অনুরোধ করেছেন৷ সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে৷ বিষয়টি বিবেচনায় আনা হতে পারে৷

ভারতীয় সাংবাদিকেরা জানালেন, ভারতে হজের জন্য আগে ভর্তুকি দেয়া হতো৷ ২০১২ সালে উচ্চ আদালতের রায়ে এই ভর্তুকি আস্তে আস্তে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়৷ ২০১৭ সাল পর্যন্ত ভর্তুকির ব্যবস্থা ছিল৷ ২০১৮ সাল থেকে একেবারে উঠিয়ে নেয়া হয়৷ এছাড়া যারা তীর্থে যান তাদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো অর্থায়নের ব্যবস্থা নেই৷ তবে কোনো কোনো রাজ্য সরকার বয়স্কদের তীর্থ যাত্রায় বিভিন্ন রকমের সহযোগিতা করে থাকেন৷ তার মধ্যে আর্থিক সহায়তাও যেমন রয়েছে, তেমনি যাত্রার ব্যবস্থা করা বা আবাসনের ব্যবস্থা করার মতো নানান ব্যবস্থা করা হয়৷

তাহলে দেখা যাচ্ছে, আমাদের চারপাশের দেশগুলোতে হজে যাওয়ার নানা রকমের প্রক্রিয়া চালু আছে৷ কোনটা ভালো, কোনটা করা যাবে, কোনটা যাবে না, তা ব্যাখ্যা করবেন আলেম ওলামারা৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.