গোপনে ছবি তোলা ও অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ঝুঁকি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম অঙ্গরাজ্য হিসেবে সব আদালতে স্মার্ট চশমা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে নিউইয়র্ক প্রশাসন। আগামী ২০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্তের আওতায় বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, আদালতের কর্মী কিংবা সাধারণ কেউই ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনযুক্ত স্মার্ট চশমা পরে আদালত ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না।

প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেট জানিয়েছে, নতুন এই নিষেধাজ্ঞা নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের মোট ১ হাজার ২৪০টি আদালতে কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি, সিটি, টাউন ও গ্রাম পর্যায়ের সব আদালত।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিরাকিউজ ডটকম-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই ‘অনারেবল জেমস সি. টর্নি থ্রি ক্রিমিনাল কোর্টহাউস’-এর প্রবেশপথে এ-সংক্রান্ত সতর্কতামূলক নোটিশ টানানো হয়েছে।
নিউইয়র্কের ইউনিফাইড কোর্ট সিস্টেমের আওতাধীন সব আদালত ভবনে ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনযুক্ত যেকোনো ধরনের স্মার্ট চশমা বা মাথায় পরিধানযোগ্য রেকর্ডিং ডিভাইস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি চোখের পাওয়ারযুক্ত প্রেসক্রিপশন স্মার্ট চশমাও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে না।
আদালত প্রশাসন ভবনে প্রবেশকারীদের সাধারণ চশমা ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে এবং স্মার্ট চশমা নিয়ে এলে তা প্রবেশের আগেই দায়িত্বরত কোর্ট অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। এই নিয়ম আইনজীবী থেকে শুরু করে আদালতের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
বর্তমানে উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়ার কয়েকটি আদালতে স্মার্ট চশমা ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকলেও, পুরো অঙ্গরাজ্যের সব আদালতে এমন সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারির ক্ষেত্রে নিউইয়র্কই প্রথম।
নিউইয়র্ক আদালতের বিদ্যমান নীতিমালায় আগে থেকেই আদালত কক্ষে বা আদালত ভবনের ভেতরে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, অডিও রেকর্ডিং, সম্প্রচার বা টেলিকাস্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে অতি সহজেই গোপনে এসব নিয়ম ভঙ্গ করা সম্ভব হওয়ায় নতুন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাধারণত স্মার্ট চশমায় ছবি বা ভিডিও ধারণের সময় একটি ছোট এলইডি আলো জ্বলে ওঠে। তবে ব্যবহারকারীরা চাইলে সফটওয়্যার পরিবর্তন বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই আলো নিষ্ক্রিয় করতে পারেন, ফলে আশপাশের কেউ বুঝতে পারেন না যে রেকর্ডিং চলছে।
আদালতে স্মার্ট চশমা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আলোচিত এক মামলার সময়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আসক্তি নিয়ে এক জুরি ট্রায়ালে সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হয়েছিলেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। সে সময় তার নিরাপত্তা দলের কয়েকজন সদস্যের চোখে মেটা রে-ব্যান স্মার্ট চশমা দেখা যায়।
ঘটনার পর বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক করে দেন, যেন আদালতের কোনো কার্যক্রম বা জুরিদের পরিচয় ওই ডিভাইস দিয়ে রেকর্ড না করা হয়। যদিও তারা বাস্তবে কোনো রেকর্ডিং করেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় স্মার্ট চশমাগুলোর একটি হলো মেটার তৈরি রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাস। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা নতুন সফটওয়্যার আপডেট আনছে। এতে যদি ডিভাইস বুঝতে পারে যে রেকর্ডিং নির্দেশক এলইডি ইচ্ছাকৃতভাবে ঢেকে দেওয়া হয়েছে বা নষ্ট করা হয়েছে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে আদালতের ভাষ্য, ব্যবহারকারী ডিভাইসে কোনো পরিবর্তন করেছেন কি না, সেটি বিবেচ্য নয়। ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনযুক্ত স্মার্ট চশমা আদালত ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিই পাবে না।
শুধু আদালত নয়, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও স্মার্ট চশমার ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করছে। চলতি বছর রয়্যাল ক্যারিবিয়ান তাদের ক্রুজ জাহাজের পাবলিক রেস্টরুম, চিকিৎসাকেন্দ্র, ক্যাসিনো ও শিশু-কিশোর কার্যক্রম এলাকায় স্মার্ট চশমা নিষিদ্ধ করেছে। এর আগে এমএসসি ক্রুজেসও একই ধরনের আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
এদিকে, গাড়ি চালানোর সময় চালকের মনোযোগ বিচ্যুতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতারাও নিষিদ্ধ ডিভাইসের তালিকায় স্মার্ট চশমা যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বিশেষজ্ঞদের মতে, গোপনে ছবি ও ভিডিও ধারণের সক্ষমতা নিয়ে মানুষের উদ্বেগ যত বাড়ছে, ততই বিশ্বজুড়ে স্মার্ট চশমার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নীতিমালা দেখা যেতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



