
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের একটি এই পাঞ্জশির। পাঞ্জশিরের অর্থ পাঁচ সিংহ। বলা হয়, দশম শতকে এই প্রদেশে পাঁচ ভাই মিলে বন্যার জল ধরে রেখেছিল একটি বাঁধ তৈরি করে।
জনশ্রুতি রয়েছে, গজনির সুলতান মাহমুদের নির্দেশে সেই বাঁধ তৈরি করা হয়েছিল।
সেই পাঁচ ভাইয়ের সম্মানে এই প্রদেশের নাম হয়ে যায় পাঞ্জশির। এই প্রদেশ প্রাকৃতিক একটি দুর্গ। চতুর্দিকে হিন্দুকুশের পর্বত। মাঝে একটুকরো সমতল। এই এলাকাতে মোট এক লাখ ৭৩ হাজার মানুষের বাস। অধিকাংশই মানুষই জাতিতে তাজিক। দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে তাজিকদের। মূলত জাতিগতভাবে তারা যোদ্ধা মনোভাবের। সমরবিদ্যাই তাদের প্রধান শক্তি।
আহমদ মাসুদের এনআরএফের সঙ্গে যোগ দিয়েছে নর্দার্ন অ্যালায়েন্স পপুলার রেসিসটেন্স ফ্রন্ট। এর নেতা তারিক আকমল বলছেন, ‘তালেবান যেদিক থেকে ঢোকার চেষ্টা করুক না কেন, তারা সফল হবে না। তালেবানকে প্রতিরোধ করার ক্ষমতা আমাদের আছে।’
নর্দার্ন অ্যালায়েন্সে আছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহও। এ ছাড়া কাবুল থেকে পালিয়ে গিয়ে বেশ কিছু আফগান সেনাও যোগ দিয়েছেন তাদের সঙ্গে।
আফগানিস্তানের ইতিহাসে প্রাচীনকাল থেকেই বারবারই আলোচনায় উঠে এসেছে পাঞ্জশির। কারণ আর কিছুই নয়, ভৌগোলিক আর কৌশলগত অবস্থানের কারণেই এ যাবৎ কোনো বিদেশি শক্তিই এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এখন থেকে ২৫০০ বছর আগে পারস্য সাম্রাজ্য জয় করেন মহাবীর আলেকজান্ডার। ওই সময় তারই নেতৃত্বে পাঞ্জশির উপত্যকাও দখলের চেষ্টা করেছিল গ্রিক সেনারা। কিন্তু জয় করতে পারেনি। অবশেষে নিজে থেকে স্থানীয় গোত্রগুলোর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন আলেকজান্ডার।
এর প্রায় দুই হাজার বছর পর শিখ মহারাজা রনজিত্ সিংয়ের খালসা শাসনামলেও উপত্যকাটি সম্পূর্ণই সুরক্ষিত ছিল। রনজিত্ সিংয়ের নেতৃত্বে পাঞ্জাবকে কেন্দ্র করে ১৭৯৯ সালে গড়ে উঠেছিল খালসা তথা শিখ সাম্রাজ্য।
১৮৪৯ সাল পর্যন্ত স্থায়ী এই সাম্রাজ্যে পশ্চিমে খাইবার পাস থেকে পূর্বে তিব্বত ও দক্ষিণে মিথানকোট থেকে উত্তরে কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এরপর একাধিক আফগানিস্তান আক্রমণ করলেও ব্রিটিশ সেনারা ভুলেও পাঞ্জশিরে প্রবেশের সাহস করেনি।
লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজেদের ভূমির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে মাত্র কয়েক হাজার প্রতিরোধ যোদ্ধা। শুধু এবারই প্রথম নয়, গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের আমল থেকেই কোনো শক্তিই পাঞ্জশিরে ঢুকতে পারেনি। ১৯৮০’র দশকে সোভিয়েত সেনা আর ১৯৯০’র দশকে তালেবান যোদ্ধারা বারবার চষ্টো করেও ব্যর্থ হয়েছে। এজন্য একে ‘আক্রমণকারীদের কবরস্থান’ বলা হয়ে থাকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


