স্ত্রীর মৃত্যুকে ঘিরে চলমান আলোচনার মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে দীর্ঘ এক পোস্টে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন অভিনেতা জাহের আলভী। তিনি দাবি করেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হলে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে এবং সেগুলো খতিয়ে দেখার জন্য সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজের বক্তব্যে জাহের আলভী বলেন, তাদের বাসার ড্রইং কাম ডাইনিং এলাকায় একটি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে, যার এক্সেস তার কাছে কখনোই ছিল না। তার দাবি, সেই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণ ছিল তার স্ত্রী ইকরার ফোনে।
তিনি জানান, ইকরার ফোন বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। আলভীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নেপালে যাওয়ার দিন থেকে ঘটনার আগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
জাহের আলভীর দাবি, তিনি নেপালে যাওয়ার জন্য ২৫ তারিখ দুপুরে বাসা থেকে বের হন। এরপর ২৫, ২৬ ও ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পর তার বাসায় ইকরার কয়েকজন বন্ধু ও বান্ধবী আসেন। তার সহকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই সময় বাসায় ধূমপান, মদ্যপান এবং গাঁজা সেবনের ঘটনাও ঘটে।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন ইকরা তার সহকারীকে দিয়ে সিগারেট ও ঘুমের ওষুধ আনান। এসব ঘটনার ফুটেজ সিসি ক্যামেরায় থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে যেন ওই তিন দিনের ফুটেজ কোনোভাবেই মুছে ফেলা না হয়।
অভিনেতা আরও জানান, ইকরার মোবাইল ফোন ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে। তার দাবি, ফোনের মাধ্যমে জানা যাবে কে তার স্ত্রীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে এবং বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের কথোপকথনেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার নিজের ফোনও প্রয়োজনে তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে দিতে প্রস্তুত।
জাহের আলভী তার পোস্টে উল্লেখ করেন, যদি ঘটনার আগের রাতে মদ বা মাদক সেবন করা হয়ে থাকে, তবে তা পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আসার কথা। তাই তিনি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট যেন কোনোভাবে পরিবর্তন না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখার অনুরোধ জানান।
পোস্টের শেষ অংশে অভিনেতা কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে তাদের সম্পর্কের মধ্যে বিভিন্ন জটিলতা থাকলেও তারা একে অপরকে ভালোবাসতেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংসার করে আসছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা চড়াই-উতরাই থাকলেও সন্তানকে কেন্দ্র করে তারা সম্পর্ক ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
সবশেষে অভিনেতা জাহের আলভী বলেন, যদি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় তবে তিনি আইনের প্রতি সম্মান রেখে তা মেনে নেবেন। তবে তিনি চান, পুরো ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হোক।
আরও পড়ুনঃ
ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরে তাকে পরিবারের সদস্যরা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে ১ মার্চ বিকেল ৫টায় জানাজা শেষে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার রানদিয়া গ্রামে নানাবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


