
সোমবার (৯ জুন) প্রচারিত একটি সাক্ষাৎকারে রাশিয়া টুডে টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমরা আলোচনার মাধ্যমে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছি। তবে নৌ অবরোধ আমাদের অধিকারের লঙ্ঘন হওয়ায় আমরা এ পরিস্থিতি মেনে নিই না এবং যেকোনো নৌ অবরোধ অবশ্যই ভেঙে দেব।”
সাবেক আইআরজিসি (ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) কমান্ডার আরও বলেন, ইরান কখনোই তার বৈধ অধিকার লঙ্ঘন হতে দেবে না।
তিনি বলেন, বৈধ অধিকার নিশ্চিত করতে ইরান আন্তরিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে প্রয়োজনে নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও দৃঢ় ও শক্তিশালীভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
রেজায়ি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা আলোচনার ব্যাপারে আন্তরিক, কিন্তু আত্মরক্ষার ব্যাপারে তার চেয়েও বেশি আন্তরিক।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান কূটনীতি, যুদ্ধক্ষেত্র এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে বিজয় অর্জন করতে চায়।
নেতার এই উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে সাম্প্রতিক মুখোমুখি অবস্থানগুলোতে ইরান বিশ্ববাসীর সামনে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও অবিশ্বস্ত চরিত্র সফলভাবে তুলে ধরেছে।
তিনি বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে দেখাচ্ছি আমেরিকা আসলে কী এবং কোন নীতিতে পরিচালিত হয়। আমেরিকার প্রকৃত চেহারা, চুক্তি ভঙ্গের পুনরাবৃত্তি, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং মানবাধিকারের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ করাই আমাদের জন্য এক ধরনের বিজয়।”
সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার জোর দিয়ে বলেন, “আমরা আলোচনায়, যুদ্ধে এবং আত্মরক্ষায় জয়ী হতে চাই।”
রাশিয়া টুডের প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করার বিষয়ে ইরানের অবস্থান কী?
জবাবে রেজায়ি বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের কাঠামোর মধ্যে, অর্থাৎ পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখব।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সমৃদ্ধকরণের অধিকার থেকে সরে আসব না। এটি একটি জাতীয় সম্পদ এবং এমন একটি প্রযুক্তি, যা বর্তমানে কৃষি, ওষুধশিল্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমরা জ্বালানি উৎপাদনের জন্য এ প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চাই এবং এ ক্ষেত্রে আমাদের অধিকার ছাড়ব না।”
রেজায়ি বলেন, “সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেই। আমরা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এই উপাদান হস্তান্তর করব না। তাই এ বিষয়ে কোনো শর্তও গ্রহণ করব না।”
ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে আগ্রহী বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দাবি সম্পর্কে রেজায়ি বলেন, “যে কোনো চুক্তি তখনই সম্ভব, যখন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের অধীনে ইরানি জনগণের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সম্মান করা হবে।”
তিনি বলেন, “শুধুমাত্র সে অবস্থাতেই একটি চুক্তি হতে পারে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রকৃত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তনের প্রবণতা ও ইসরায়েলের প্রতি তার নির্ভরশীলতার কথা উল্লেখ করেন।
রেজায়ির ভাষায়, “মি. ট্রাম্প আলোচনায় প্রয়োজনীয় সাহস দেখান না। কখনও কখনও তিনি ইসরায়েলের তৈরি জনমতের প্রভাবে চলে যান। তিনি আমাদের এক কথা বলেন, পরে আবার তা ফিরিয়ে নেন। তিনি মূলত আলোচনার মানুষ নন; তিনি আলোচনায় সক্ষম নন।”
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা চলমান থাকলেও ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমেরিকানদের স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে। অস্পষ্টতা এবং অতিরিক্ত দাবি নিয়ে আলোচনা সফল হতে পারে না।”
রেজায়ি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অটুট থাকবে এবং এ বিষয়ে “কোনো পিছু হটার সুযোগ নেই”।
তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী নির্ধারিত ট্রানজিট বিধি মেনে চললে এ প্রণালির মাধ্যমে বাণিজ্যিক চলাচল অবাধ থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আইআরজিসির নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় খোলা থাকলেও জলপথে কোনো বৈরী সামরিক অবরোধের চেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে।
তার ভাষায়, “বাণিজ্যিক চলাচল অব্যাহত থাকবে, কিন্তু সামরিক চলাচল কোনোভাবেই অনুমোদিত হবে না। আমরা নিজেদের হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তার দায়িত্বশীল পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করি। তাই ইরান কখনোই হরমুজ প্রণালিতে তার অধিকার ত্যাগ করবে না।”
সূত্র: প্রেস টিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



