in ,

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: কম-বেশি কেউ না কেউ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন। এমন মহামারি সত্ত্বেও এ রোগ নিয়ে আছে কিছু ভুল ধারণা।

উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক কিছু নয়:

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তি সময়মতো চিকিৎসা না নিলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনিজনিত জটিলতায় পড়তে পারেন। হৃদযন্ত্র বিকল থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তি কমে আসা ও হৃৎযন্ত্রের পেশী বিকলও হতে পারে। এ কারণে এটাকে বলা হয় নীরব ঘাতক।

যত সময় গড়াবে তত এটি ধমনীর ওপর চাপ বাড়াবে। রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্তে কমে আসবে অক্সিজেনের পরিমাণ। এতে শরীরের আরও অনেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এটি শতভাগ বংশগত:

অনেকেই মনে করেন মা-বাবার উচ্চ রক্তচাপ আছে মানে তিনিও আক্রান্ত হবেন। এটি পুরোপুরি সত্য নয়। জিনেটিক বা বংশগত কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে।

তবে সবসময় হবে এমনটা নয়। বাবা-মা কারও না থাকলেও সন্তানের এ রোগ হতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যগত নানা অনিয়ম থেকে এটি দেখা দেয়।

কম বয়সে হয় না:

বয়সের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা বাড়লেও দুটো একেবারে সম্পর্কিত নয়। এখন অল্পবয়সী ও মধ্যবয়সীদেরও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

লক্ষণ থাকবেই:

উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, অনেক সময়ই এর কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। তবে ভেতরে ভেতরে ক্ষতি যা করার তা করতেই থাকে। এর জন্য মাঝে মাঝে প্রেশার মেপে দেখা উচিত সবারই।

রক্তচাপ কমলে ওষুধ লাগবে না:

উচ্চ রক্তচাপের অনেক রোগীই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে ওষুধ বন্ধ করে দেন। এটি মোটেও উচিত নয়। রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও যে ওষুধ ডাক্তার আপনাকে চালিয়ে যেতে বলেছেন, সেটা খেতেই হবে।

কাঁচা লবণ না খেলে চিন্তা নেই:

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী একজন সুস্থ ব্যক্তির শরীরে প্রতিদিন পাঁচ গ্রাম লবণের প্রয়োজন। প্রক্রিয়াজাত অনেক খাবারেও লবণ থাকে। বিশেষ করে ব্রেড, পিৎজা, স্যান্ডউইচ, পনির, স্যুপ, চিপস জাতীয় খাবারে লবণ থাকে বেশি।

এ ছাড়াও সামুদ্রিক অনেক মাছেও থাকে লবণ। আর লবণ সরাসরি হোক বা রান্নায়, প্রয়োজনের বেশি খেলেই বিপদ।

উচ্চ রক্তচাপ সেরে যায়:

বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ স্থায়ী রোগ হিসেবে পরিচিত। এ রোগের পুরোপুরি নিরাময় এখনও আবিষ্কার হয়নি। তবে পরিস্থিতি সাপেক্ষে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে নজর রাখলে এটি প্রতিরোধযোগ্য।

অ্যালকোহল ও ধূমপান বর্জন, দুশ্চিন্তা না করা,পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, অতিরিক্ত লবণ পরিহার, ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।