করোনায় আক্রান্ত মানুষের পাশে বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট

জুমবাংলা ডেস্ক: করোনাকালীন সময়ে ও বিধিনিষেধের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের মাঝে বিনামূল্যে খাবার বিতরণ, মূমুর্ষ রোগীকে অক্সিজেন সরবরাহ, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ এবং জন সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচার প্রচারণা সহ নানা কার্যক্রম করছে রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা। এমনকি বিনামুল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও দিচ্ছে তারা। করোনা মহামারীর মধ্যে রেড ক্রিসেন্টের এমন সেবায় খুশি জেলার সাধারণ মানুষ।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল বাগেরহাট জেলায় প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মানুষকে সচেতন করা শুরু করে। বাগেরহাট শহর থেকে শুরু করে প্রত্যান্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও তারা পৌছে দিয়েছে খাদ্যসামগ্রী। বিতরণ করেছে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ২১ জুন থেকে মূমুর্ষ রোগীদের অক্সিজেন সহায়তা এবং ২২ জুন থেকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজনদের মাসব্যাপী রাতের খাবার দেওয়া শুরু করেছে তারা। পাশাপাশি কখনো গান গেয়ে, কখনো মাইকিং করে, কখনো আবার মাস্ক বিতরণের মধ্যে দিয়ে সচেতন করছে মানুষকে। রাস্তাঘাট জীবানুমুক্ত করতে ছিটিয়েছে জীবানুনাশক। সদর হাসপাতালে বিনামূল্যে রাতের খাবার পেয়ে খুশি রোগীর স্বজনরা।

মঠবাড়িয়া থেকে আসা এক রোগী আব্দুল হালিম বলেন, আজ এক সপ্তাহ এসেছি। বেশি টাকাপয়সাও নেই। হাসপাতাল থেকে রোগীদের খাবার দিলেও অন্যদের তো দেয় না। সাথে আমার স্ত্রী আছে। ওর জন্য আলাদা খাবার কিনতে হয়। কিন্তু আজ চারদিন রাতে বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছে লাল পোশাকের ওরা। আমরা খুব খুশি ।

দশ দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকা নাসির দর্জি নামের এক রোগী বলেন, আমার সাথে আমার বোন থাকে হাসপাতালে।আমাকে খাবার দিলেও বোনের খাবার ব্যবস্থা করতে খুব কষ্ট হত। কয়েকদিন ধরে রেড ক্রিসেন্টের পক্ষ থেকে খাবার পাচ্ছি। আল্লাহ ওদের ভালো করুক। রেড ক্রিসেন্টের অক্সিজেন সহায়তা নেওয়া মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বারুইখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান বলেন রেড ক্রিসেন্টের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ২৫ জুন রাতে আমার স্ত্রী খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার শ্বাসঃকষ্ট শুরু হয়। কোনো উপায় না পেয়ে রেড ক্রিসেন্টে ফোন করি। রাত দুইটার দিকে তাদের সদস্যরা এসে আমার স্ত্রী খালেদা ইয়াসমিনকে অক্সিজেন দেয়।

বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের যুব প্রধান শরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমরা রেড ক্রিসেন্টের যুব সদস্য। আমরা আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত। এ করোনাকালীন সময়ে আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরে নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্ত মানুষকে সাহায্যে করছে। করোনার শুরু থেকে বাড়িতে বাড়িতে ফ্রি হোম ডেলিভারী, সবজির ভ্যান, কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবার কাজসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত করে আসছে। করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ডেউয়ে জেলার মূমুর্ষ রোগীদের যে কোনো মুহুর্তে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য আমাদের ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সদা প্রস্তুত থাকে।

বাগেরহাট রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার নাজমুল কবির ঝিলাম বলেন, করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্তদের দেখভাল করা স্বজন যাতে অন্যদের করোনা সংক্রমিত না করতে পারে তার জন্য বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে মাসব্যাপী রাতের খাবার দেয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের স্বজনসহ খাদ্য সংকটে থাকা তিন শতাধিক মানুষদের দেয়া হচ্ছে এ খাবার। তিনি আরো বলেন, আমরা ৩৮টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে করোনা আক্রান্তদের বাড়িতে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছি। প্রতিদিন-ই দুচারজন করে করোনা আক্রান্তদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা লোকজনকে করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে গণসংযোগ, প্রচার-প্রচারণার পাশাপশি মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করছে বলে জানান তিনি। এছাড়া বিনামুল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কেএম হুমায়ুন কবির বলেন,আমরা শুধু সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খাবার দিতে পারি। কিন্তু রোগীর স্বজনদের দিতে পারি না। রোগীর স্বজনদের জন্য রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে যে খাবার দেওয়া হচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যার ফলে রোগীর স্বজনরা খাবারের জন্য বাইরে যাবে না, আবার তাদেরকে খাবার দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে হাসপাতালে লোকও আসবে না। এর ফলে হাসপাতালে লোকসমাগম কম হবে। সাথে সাথে করোনা সংক্রমণও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সূত্র: বাসস


জুমবাংলানিউজ/একেএ