করোনায় সখের গহনা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ভারতীয়রা

প্রতীকী ছবি


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনা মহামারিতে দারিদ্রের মুখে পড়েছে লাখ লাখ ভারতীয়। জীবিকা নির্বাহের জন্য এখন তারা নিজেদের শেষ সম্বল সোনার গহনাও বিক্রি করে দিচ্ছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ ভারতে এই দুর্দশা সবচেয়ে প্রকট। তাদের আয়ের পথ রুদ্ধ এবং ক্রয়ক্ষমতাও নিঃশেষ হয়ে গেছে। আশে পাশে ব্যাংক কম থাকায় তারা খুবই কম দামে নিজেদের গহনা বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

লন্ডনভিত্তিক মেটালস ফোকাস লিমিটেড-এর কন্সালট্যান্ট চিরাগ শেঠ বলেন, করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গের কারণে আর্থিক সঙ্কটের আশঙ্কা অনেক বেশি। গ্রাহকরা তাদের সোনার গহনা বন্ধক দিয়ে ও বিক্রি করে নগদ টাকা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। সংগৃহীত পুরনো সোনার পরিমাণ ২১৫ টন পর্যন্ত হতে পারে। এসব সোনাকে গলিয়ে নতুন রূপে পরিবেশন করা হবে। শেঠ আরো বলেন, গত বছর মহামারিতে আপনি আর্থিক সঙ্কটে পড়ে সোনা বন্ধক দিয়ে সাংসারিক খরচ সামলেছেন। মহামারি কেটে গেলে চলতি বছর আপনি সেগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে পারতেন।

কিন্তু চলতি বছর তা আরো জেঁকে বসেছে। আপনাকে সম্ভাব্য তৃতীয় তরঙ্গের আশঙ্কায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। লকডাউনে আপনার চাকরি চলে যেতে পারে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে যখন প্রকৃত অর্থেই করোনার তৃতীয় ঢেউ চেপে বসবে, তখন লোকজন আরো সোনা বিক্রি করতে বাধ্য হবে। অনেক ভারতীয়, যারা দারিদ্র্যসীমা থেকে ওপরে ছিলেন, তারা লকডাউনের কবলে পড়া পঙ্গু অর্থনীতির কারণে ফের চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। ২০ কোটি মানুষের দৈনিক আয় ৫ ডলারের নিচে নেমে গেছে।

পল ফার্নান্দেজ নামের একজন ৫০ বছর বয়সী ওয়েটার বলেন, গত বছর লকডাউনে চাকরি চলে যাওয়ার পর ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ মেটানোর জন্যে সোনা বন্ধক দিয়ে নগদ টাকা নিয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছর আরেকটি চাকরি পাওযার চেষ্টায় এবং হোম বিজনেসের সন্ধানে সোনাগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। কারণ সোনাগুলো ফের ছাড়িয়ে আনার ক্ষমতা আমার নেই এবং এগুলোর সুদও পরিশোধ করতে পারছিলাম না।

পল ফার্নান্দেজের মতো এরকম হাজার হাজার লোক রয়েছেন, প্রথম বছর সোনাদানা বন্ধক দিয়ে মহামারি সামলানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় বছরে এসে করোনার আরও তীব্রতায় তাদের আয়ের পথ একেবারেই রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং তারা বন্ধক দেওয়া সোনার গহনা ছাড়িয়ে নেওয়ার পরিবর্তে একেবারেই বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক কম।

সূত্র: এনডিটিভি।


জুমবাংলানিউজ/এসওআর