জুমবাংলা ডেস্ক : সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে কাপড় পাল্টাচ্ছিলেন তরুণী। তখনও বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। পরদিন সন্ধ্যায় তরুণীর বাসায় ঢুকে প্রতিবেশী মঈনুল। এসময় তরুণীকে মোবাইলফোনে ধারণকৃত সেই ভিডিও দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দেন ওই যুবক। ভিডিও দেখে তরুণী হতভম্ব হয়ে যান।
ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করে মঈনুল। রাজি না হলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। তাতেও রাজি হন না তরুণী। উল্টো তিনি চিৎকার দেয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে মঈনুলসহ বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকা মনিরুলসহ কয়েকজন দলবেঁধে ওই তরুণীর সর্বনাশ করার চেষ্টা করে।
ঘটনাটি গত বছরের ১৬ অক্টোবরের হলেও এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় এখনো গ্রেপ্তার হয়নি অন্যতম আসামি খান জাহান আলী রোড এলাকার বাসিন্দা মঈনুল ও মনিরুল মৃধা। নির্যাতিতার অভিযোগ প্রভাব খাটিয়ে নারী নির্যাতনের মতো মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে মনিরুল।
নির্যাতিতা জানান, গাজীপুরের ওই তরুণী স্বামীকে নিয়ে ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। তার স্বামী একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। সেই সুযোগে জোর করে মুখ চেপে তাকে টেনে ধরে পাশের রুমে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে মঈনুল। কিন্তু তরুণীর বাধার কারণে পেরে উঠছিলো না। এসময় আগে থেকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তার তিন-চার জন সঙ্গী ঘরে ঢুকে তরুণীর সর্বনাশ করার চেষ্টা করে। এসময় তরুণীর চিৎকারের শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর স্থানীয়দের নিকট বিচারপ্রার্থী হন ওই তরুণী। কিন্তু স্থানীয় লোকজন আসামিদের ভয়ে এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এই সুযোগে উল্টো নির্যাতিতাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছিলো সন্ত্রাসীরা। অবশেষে এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করার চেষ্টা করেও পারেননি নির্যাতিতা তরুণী। বাধ্য হয়েই আদালতে মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধনী আইনে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্রনালে এই মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতিতা।
এই মামলায় গত ১৩ নভেম্বর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। নির্যাতিতা জানান, আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও মঈনুল ও মনিরুল মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। তবে পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। অন্যদিকে, এই মামলার আসামি কেরানীগঞ্জের, আব্দুল কুদ্দুছ, আরশিনগর এলাকার আব্বাস উদ্দিন আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকের মো. যোবায়ের জানান, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হবে। ইতিমধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।