
জুমবাংলা ডেস্ক : রবিবার আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলে নেয় তালেবান। এরপর দেশটি ছেড়ে যেতে চাওয়া সাধারণ আফগানদের ভিড়ে হট্টগোল লেগে যায় কাবুল বিমানবন্দরে, যা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হয় কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া মার্কিন সৈন্যদের। এক পর্যায়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয় বিমানবন্দর। এরপরও বিমানবন্দরে বাড়তে থাকে ভিড়।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, যে যেভাবে পারছে বিমানে উঠছে। সোমবার কাবুল বিমানবন্দরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মরিয়া আফগানরা রানওয়ে ধরে চলতে থাকা একটি বিমানের সঙ্গে সঙ্গে ছুটে চলছে এবং অনেকেই বিমানটির গা বেয়ে উঠবার চেষ্টা করছে।
আরেকটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, উড্ডয়নের পর আকাশে থাকা একটি বিমান থেকে দুইজন মানুষ ছিটকে নিচে পড়ছে।
বিমান থেকে খসে পড়া ওই দুইজন সম্পর্কে সহোদর। দুই ভাইয়ের এক জনের বয়স ২৫। নাম শাফিউল্লা হোতাক। অন্যজন ২০ বছরের। নাম ফিদা মহম্মদ। বাড়ি কাবুলের কাছে পাঘমানে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
কাবুল বিমানবন্দর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে একটি বাড়ির ছাদে আছড়ে পড়েছিলেন দু’জন। এতটাই শব্দ হয়েছিল যে প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন বিস্ফোরণ হয়েছে। জায়গাটির নাম খ্যায়ের খানা। সেখানকার বাসিন্দা সালেকের দোতলা বাড়ির ছাড়ে খসে পড়েন দুই সহোদর।
এতটাই শব্দ হয়েছিল যে প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন বিস্ফোরণ হয়েছে। ভুল ভাঙে বাড়ির মালিক ছাদে যাওয়ার পর। দেখা যায় ছাদে পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত দু’টি দেহ। দু’জনেরই বয়স বেশ কম। তবে তাঁদের মাথার খুলি ফেটে গিয়েছিল। পেট ফেটে বেড়িয়ে এসেছিল নাড়িভুঁড়ি।
সোমবার দুপুরে যখন ঘটনাটি ঘটে তখন বাড়িতে বসেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন সালেক। তার দুই মেয়ে ছিলেন রান্নাঘরে। ঘুমোচ্ছিলেন দুই ছেলে। প্রবল শব্দে চমকে ওঠেন সবাই। সালেক বলেছেন, ‘বাড়ির দেওয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছিল। আওয়াজ শুনে দৌড়ে ছাদে যাই। সেখানেই দেখি ওই দৃশ্য।’
সালেকের স্ত্রী জাকিয়া সালেকও এসেছিলেন স্বামীর পিছনে। প্রায় বিকৃত হয়ে যাওয়া দেহ দু’টি দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন জাকিয়া। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞানও হারান। সালেক বলেছেন, ‘গোটা ছাদে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল রক্ত আর শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ। ওই দৃশ্য দেখা যাচ্ছিল না।’
সালেক প্রথমে ভেবেছিলেন দু’জনেই তালেবান। প্লেন থেকে মেরে হয়তো ফেলে দেওয়া হয়েছে তাদের। পরে তাদের একজনের পোশাক পরীক্ষা করে পাওয়া যায় পরিচয়পত্র। তাতে বাড়ির ঠিকানা ছিল। সেখান থেকেই তাদের বাড়িতে খবর দেন সালেক। চাদরে তাদের লাশ মুড়ে সালেক দিয়ে আসেন বাড়ি থেকে ৩০০ মিটার দূরে একটি মসজিদে। তবে তার আগে ১০-১২ জন প্রতিবেশীকে ডেকে এনে তাদের পরামর্শ নেন সালেক।
বাড়ি থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে কাবুলে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন সালেক। সোমবার সন্ধে ৬টা থেকে শিফট ছিল তার। রাতে বাড়ি ফিরে জানতে পারেন মসজিদ থেকেই দুই আফগান ভাইয়ের লাশ নিয়ে গেছে তাদের পরিবার।
সালেকের ধারণা, বিমানবন্দরে যখন হাজারো আফগান মরিয়া হয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা করছিলেন সম্ভবত তখন বিমানে ওঠার ওই দৃশ্য তাদের মরিয়া করে তুলেছিল।
সে কারণেই দুই ভাই হয়তো আঁকড়ে ধরেছিলেন বিমানের ল্যান্ডিং গিয়ার। নিজেদের আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিলেন ল্যান্ডিং গিয়ারের সঙ্গে। কিন্তু যে কোনো বিমান আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ল্যান্ডিং গিয়ার বিমানের তলদেশে ঢুকে যায়। ফলে তার সঙ্গে লেগে থাকা যে কোনো জীব বা বস্তুর খসে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো গতি থাকে না। রেজা ও কবীরের পরিণতিও সেটাই হয়েছিল। কাবুলের আকাশে দু’টি বিন্দুর মতো খসে পড়েছিলেন দুই ভাই।
Three Kabul residents who were trying to leave the country by hiding next to the tire or wing of an American plane, fell on the rooftop of local people. They lost their lives due to the terrible conditions in Kabul. pic.twitter.com/Cj7xXE4vbx
— Sayed Tariq Majidi (@TariqMajidi) August 16, 2021
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


