আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীর ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন। সোমবার নোবেল বিজয়ী ওই অর্থনীতিবিদ কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এটি যে শুধুমাত্র সমস্ত মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে’ তা-ই নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও ভাবা হয়নি।

চলতি মাসের গোড়াতেই জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানকারী ৩৭০ ধারা অবলুপ্তি এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করার ক্ষেত্রে সরকারের ওই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও জন সমর্থন পায়।
রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডতি করার বিলটি বেশ কয়েকটি মূল বিরোধী দল এবং নির্দল নেতাদেরও সমর্থন পেয়েছে। এমনকি কংগ্রেস নেতাদের একটি অংশও বিশেষ মর্যাদার সমাপ্তির প্রশংসা করেছিল। যার ফলে এখন জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সমান হয়ে গেছে। আগে যেখানে এই রাজ্যটি তার নিজস্ব সংবিধান, পতাকা, দণ্ডবিধি এবং রাজ্যে তারা জমি কিনতে পারবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখত।
অন্যান্য রাজ্যের লোকেরা জম্মু ও কাশ্মীরে জমি কিনতে পারবে এই প্রত্যাশার কথা মনে রেখেও ড. সেন বলেন, রাজ্যের জনগণের (জম্মু ও কাশ্মীর) কথা ভেবেও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে কাশ্মীরিদের বৈধ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে কারণ যে এটি তাদের জমি।
জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন অমর্ত্য সেন। বলেন, জনগণের নেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা ন্যায়বিচার করতে পারেন বলে আমি মনে করি না এবং যদি আপনি হাজার হাজার নেতাকে সংযত রাখেন এবং তাদের অনেককে কারাগারে আটকে রাখেন…তাহলে আপনি গণতন্ত্রকে সেই বৈশিষ্ট্যকে দমন করছেন যা গণতন্ত্রকে সফল করে তোলে।
সরকার ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশাল নিরাপত্তার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোতে জনসাধারণের ক্ষতি হতে পারে এমন প্রতিক্রিয়া রোধ করতেই এই পদক্ষপ বলে বর্ণনা করেছে সরকার।
এই সিদ্ধান্তেরও তীব্র সমালোচনা করে অমর্ত্য সেন বলেন ‘এটি সর্বোত্তম ঔপনিবেশিক অজুহাত। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ চালিয়েছিল। আমরা যখন স্বাধীনতা পেলাম তখন আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম… আমরা আমাদের ঐতিহ্য মেনে কাজ করব।
সূত্র : এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



