আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন খামারে প্রস্তুত করা হচ্ছে কুরবানির পশু। এরই মধ্যে জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার একটি খামারে লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় ‘সম্রাট’ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

প্রায় ৭ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট দৈর্ঘ্যরে কুচকুচে কালো রঙের ষাঁড়টির মাথা ও শরীরের নিচের অংশে রয়েছে সাদা ছাপ। সুঠাম গঠন ও বিশাল দেহের কারণে খামারটির মূল আকর্ষণে পরিণত হয়েছে ‘সম্রাট’।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘সম্রাটে’র বর্তমান ওজন প্রায় এক হাজার ১০০ কেজি, অর্থাৎ এক টনেরও বেশি। ঈদুল আজহায় কুরবানির জন্য গরুটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।
খামার সূত্রে জানা গেছে, ‘সম্রাট’কে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন গরুটির খাবারের পেছনে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। খাবারের তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, খড়-ভুসি, ভুট্টা, বাঁধাকপি, মিষ্টিকুমড়া, ধানের কুঁড়া ও চালের ভাত। পাশাপাশি নিয়মিত গোসল, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়।
খামারের তত্ত্বাবধায়ক জানান, ‘সম্রাট’কে সন্তানের মতো মমতায় বড় করা হয়েছে। এটি শুধু গবাদিপশু নয়, আমাদের পরিবারের সদস্য এবং খামারের অন্যতম আকর্ষণ।
শেঠ অ্যাগ্রো ফার্মস লিমিটেড নামের ওই খামারে চলতি বছর কুরবানির জন্য মোট ৮৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশুর সর্বনিম্ন ওজন ৪০০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ওজন ১ হাজার ১০০ কেজি। প্রতিটি গরুর মূল্য লাখ টাকার ওপরে।
খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রস্তুতকৃত অধিকাংশ পশু চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ী এলাকায় বিক্রি করা হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ের খামারগুলোতে প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়। এখানে ক্ষতিকর ওষুধ বা রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। ফলে পাহাড়ের গরুর মাংস স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় সমতলের বাজারেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আজম জানান, এ বছর খাগড়াছড়ি জেলায় ২ হাজার ৫৮৭টি খামারে মোট ১৮ হাজার ১৬৮টি কুরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলার চাহিদা ১৩ হাজার ১১০টি হলেও অতিরিক্ত রয়েছে ৫ হাজার ৫৮টি পশু। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব পশু দেশের বিভিন্ন সমতল জেলায়ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



