সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন নারী কনটেন্ট নির্মাতার ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করা, ভুয়া ও মানহানিকর ফটোকার্ড ছড়ানো এবং ভবিষ্যতে আরও তথ্য প্রকাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে পিটিশন করেছেন মোছা. রাফিয়া আক্তার বৃষ্টি।

অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে যার সাইবার পিটিশন মামলা নম্বর ১২২/২০২৬, তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬। নথিতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ২২, ২৫ ও ২৭ ধারার কথা বলা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী রাফিয়া আক্তার বৃষ্টি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা এবং একজন কনটেন্ট নির্মাতা। পিটিশনে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় অজ্ঞাত উল্লেখ করা হলেও তার ব্যবহৃত বলে দাবি করা ফেসবুক আইডির নাম ‘স্বাধীন দেশের নাগরিক’। নথিতে আইডিটির প্রোফাইল ঠিকানা হিসেবে facebook.com/tuhin0878 উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘Surmar Dak Family’ নামের একটি ফেসবুক পাবলিক গ্রুপের নামও আসামিপক্ষের পরিচিতি অংশে রয়েছে।
পিটিশনে বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাঁর ফেসবুক আইডিতে একাধিকবার রিপোর্ট করেছেন, যাতে তাঁর প্রকাশিত ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট অনুসারীদের কাছে না পৌঁছায়। পাশাপাশি তাঁর ছবি সংগ্রহ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও আপত্তিকরভাবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট ও ফটোকার্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২৬ জুন ২০২৬ দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে এ ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়। পরে ২৮ জুন, ৭ জুলাই, ৯ জুলাই এবং ১৩ জুলাই ২০২৬ বিভিন্ন সময়ে বাদীর ছবি ব্যবহার করে একাধিক পোস্ট ও ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পিটিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোস্টগুলোর পৃথক লিংকও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, এসব পোস্টে তাঁর বিরুদ্ধে রোগে আক্রান্ত হওয়া, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, প্রতারণা, হানিট্র্যাপ এবং অল্প সময়ে অবৈধভাবে অর্থসম্পদের মালিক হওয়ার মতো বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর।
পিটিশনে আরও বলা হয়েছে, ‘Surmar Dak Family’ গ্রুপে বাদীর ছবি ব্যবহার করে বিদেশে থাকা এক ব্যক্তির কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেওয়া এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগসংবলিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বাদী ওই বক্তব্যকেও মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। একই গ্রুপের বিরুদ্ধে শাহপরান জিআর মামলা নম্বর ১৮০/২০২৬ চলমান রয়েছে বলেও বর্তমান পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, ধারাবাহিক এসব পোস্টের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ভবিষ্যতে আরও তথ্য ও ছবি প্রকাশের হুমকি দিয়েছেন বলেও পিটিশনে অভিযোগ করা হয়। বিষয়গুলো সাক্ষীদের মাধ্যমে জানতে পেরে এবং নিজ ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টগুলো দেখার পর তিনি পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীর পরামর্শ নেন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বাদী প্রথমে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। তবে থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহণ না করে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে পিটিশন দাখিল করেন। আদালতের কাছে অভিযোগ গ্রহণ, অভিযুক্তের প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আদেশ চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদী রাফিয়া আক্তার বৃষ্টি বলেন, “গত ২৬ জুন থেকে আমার ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর পোস্ট ছড়ানো হয়েছে। কয়েকটি ছবি এআই দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে এবং আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়েছে। এতে আমি ও আমার পরিবার সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। থানায় প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি। সংশ্লিষ্ট আইডি ও গ্রুপ পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. জাবের হুসাইন বলেন, “বাদীর কাছে থাকা স্ক্রিনশট, পোস্টের লিংক ও অন্যান্য ডিজিটাল উপাত্ত পিটিশনে তুলে ধরা হয়েছে। আদালতের কাছে অভিযোগ গ্রহণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট আইডি ও গ্রুপের প্রকৃত পরিচালনাকারীকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের বিচারিক সত্যতা তদন্ত ও শুনানির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।”
অভিযুক্ত ব্যক্তি অজ্ঞাতনামা হওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক আইডি বা গ্রুপের পরিচালনাকারীর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



