Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক: অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ ফণী’র’ প্রভাবে শুক্রবার ও শনিবার দুইদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৫ জনের নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের সাথে বজ্রপাতে ৬ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া ঝড়ে ঘর ও গাছচাপায় ৮ জন এবং বৃষ্টিতে জলাবদ্ধ পানিতে পড়ে এক শিশু মারা গেছে। খবর ইউএনবি’র।

ইউএনবির প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়, শুধু বজ্রপাতের আঘাতে কিশোরগঞ্জের তিন উপজেলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া ঘর বিধ্বস্ত হয়ে ও গাছ ছাপায় বরগুনা ও নোয়াখালীতে ২জন করে এবং বাগেরহাট, ভোলা, লক্ষ্মীপুর ও পটুয়াখালী ও চাপাইনবাগঞ্জে একজন করে মারা গেছেন।

‘ফণী’র প্রভাবে প্রচণ্ড বাতাসে সহস্রাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন ফসলের। বহু গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। আহত হয়েছে ৪ শতাধিক মানুষ।

নোয়াখালীর উপকূলীয় সুবর্ণচর উপজেলায় চর ওয়াপদা ইউনিয়নের চর আমিনুল হক গ্রামে শনিবার সকালে ঘর চাপা পড়ে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. ইসমাইল ওই গ্রামের আবদুর রহমানের ছেলে। এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, সকাল ৯টার দিকে গাছের ঢাল পড়ে কাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আবু হানিফের মেয়ে নাজমুন নাহার (১২) নিহত হয়। সে একটি বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্রী।

এদিকে ভোলায় সদর উপজেলার পরোলিয়া গ্রামে ঘর ভেঙে রাণী বেগম নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. জহিরুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় গাছের ডাল ভেঙে এক নারী মারা গেছেন। নিহত শাহিনূর বেগম (৩৫) চোরামন কাজি সদর উপজেলার মোজাহারের স্ত্রী।

লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর নেয়ামতপুর এলাকায় শনিবার সকালে ঘূর্ণিঝড় ফণির আঘাতে আনোয়ারা খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা ঘরচাপা পড়ে নিহত হয়েছে।

রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রফিকুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ১৫ জন আহত হয়েছে। অর্ধশতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। লন্ড বন্ড হয়ে গেছে।

এছাড়া পটুয়াখালীর মানসিতলা গ্রামে শনিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত আবিদ মুসল্লি হারুন মুসল্লির ছেলে। কুয়াকাটা পৌরসভার মেয়র বলেন, মোটরসাইকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে ঝড়ে বড় একটি গাছ উপড়ে পড়ে সেটির চাপায় ওই যুবক নিহত হয়।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামে ফণীর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বর্ষণে বাড়ির পাশের নিচু এলাকায় জলাবদ্ধ পানিতে ডুবে শনিবার বেলা ১১টায় তিন বছরের এক শিশু মারা গেছে। নিহত মোরসালিন কালুপুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।

এছাড়া বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাসে ঘর ভেঙে পড়ে দাদি ও নাতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চরদুয়ানি ইউনিয়নের দক্ষিণ চরদুয়ানি গ্রামের বাঁধঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নূরজাহান (৬০) ও তাঁর নাতি জাহিদুর (৮)।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী ম্যইজস্ট্রেট জাকির হাসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ ভারতের উড়িষ্যায় আঘাত হানার পর দুর্বল হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে অবস্থান করছিল বলে অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। তবে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে এখন ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন রয়েছে এবং সারাদেশে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হয়।

এর আগে শুক্রবার কিশোরাগঞ্জে বজ্রপাতে নিহতরা হলেন- মিঠামইন উপজেলার কুড়ারকান্দি গ্রামের এবাদ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৭), বিরামচর গ্রামের মো. গোলাপ মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন (২২), পাকুন্দিয়া উপজেলার কুশাকান্দা গ্রামের আয়েছ আলীর ছেলে আসাদ মিয়া (৪৫), হালিম উদ্দিনের মেয়ে নুরুন্নাহার (৩০), ইনছানের ছেলে মুজিবুর রহমান (৪৫) ও ইটনা উপজেলার কাঠুইর গ্রামের রাকেশ দাসের ছেলে রুবেল দাস (২৬)।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির রাব্বানি জানান, কুড়ারকান্দি গ্রামের হাওরে বৃষ্টির মধ্যে গরু আনতে গিয়ে সুমন মিয়া বজ্রপাতের আঘাতে মারা যায়। অন্যদিকে, বিরামচর গ্রামের হাওরে বোরো ধান কাটার সময় বজ্রপাত হলে কৃষক মহিউদ্দিন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান, বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটার সময় বজ্রপাতে আসাদ মিয়ার মৃত্যু হয়।

এছাড়া শুক্রবার বিকালে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতের আঘাতে নুরুন্নাহার ও মুজিবুর মারা যান।

ইটনা থানার ওসি মোহাম্মদ মুর্শেদ জামান জানান, দুপুরে কাঠুইর গ্রামের হাওরে ধান কাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে রুবেল আহত হন। তাকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বিভিন্ন জেলার কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে ঘূণিঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে অন্তত চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Azad is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.