আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যৌনকর্মী এবং তাদের খদ্দেরদের আটক করে শাস্তি হিসেবে তথাকথিত শিক্ষা কেন্দ্রে পাঠাতো চীন সরকার। যাদের সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত সেখানে আটকে রেখে খেলনা এবং বাসাবাড়ির নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরিতে শ্রম দিতে বাধ্য করা হতো। অনেক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ২৯ ডিসেম্বর থেকে এই বাধ্যামূলক শ্রম থেকে তাদের মুক্তি মিলেছে। তবে দেশটিতে যৌন পেশা এখনো অবৈধই থাকছে। নতুন আইনে এধরণের কর্মকান্ড অভিযুক্তদের ১৫ দিনের আটকাদেশ এবং সর্বেচ্চ পাঁচ হাজার ইউয়ান জরিমানা বিধান রাখা হয়েছে। সিনহুয়া, বিবিসি
চীনা কর্তৃপক্ষ দাবি করে, বছর বিশেক আগে আটক এবং নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার ফলে উগ্রপন্থা দমন, সামাজিক পরিবেশ এবং শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তবে মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করেন, সময়ের বিবর্তনে এই ব্যবস্থাটি অনেক বেশি অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের সদস্যদের জোরপূর্বক এসব ক্যাম্পে নিয়ে তাদের ধর্মবিশ্বাস ত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে দেখা যায়, আটকের পর পুলিশ তাদের ৪-৫ দিন পর ছেড়ে দেবে বলে স্বাক্ষর নিয়েও দীর্ঘ মেয়াদে আটক করে রেখেছে। অনেককে পুলিশ লাঠি দিয়ে পিটিয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
গবেষণায় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় আটক থাকা নারীরা এমন কোনো নতুন কাজ শিখতে সক্ষম হননি, যা মুক্তির পর তাদের জীবন ধারনের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। ফলে মুক্তি মিললেও তাদের আবারো সেই পুরোনো পেশায় ফিরে যেতে দেখা গেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

