Views: 52

জাতীয় বিভাগীয় সংবাদ

জৈন্তাপুরে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

মোহম্মদ মহসিন, ইউএনবি: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ এলাকায় অবাধে চলছে লাল মাটির টিলা কাটার মহোৎসব।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, বাড়িঘর নির্মাণের কথা বলে ৫০-৬০ ফুট উঁচু টিলা কেটে মাটির শ্রেণি পরিবর্তন করে সমতল করা হচ্ছে। আর পাহাড় ও টিলা কাটা মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এই মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে নদী, পুকুর ও নিচু জমি। প্রতিদিন ট্রাক বোঝাই করে মাটি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে।

অভিযোগ রয়েছে, পাহাড় কাটার কাজ শুরুর আগে সেখানে অনেক গাছগাছালি ছিল। সেগুলো প্রথমে পরিষ্কার করা হয়। তারপর তারা মাটি কেটে নিয়ে যান। মাটির যোগান দিতে বিশাল কয়েকটি পাহাড় কেটে সাবাড় করে চলেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

পাহাড় কেটে লাল মাটি রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাত ৮টার পর থেকেই কুপি জ্বালিয়ে ওই এলাকায় শুরু হয় টিলা কাটা।

এদিকে পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও জেলা প্রশাসন, বনবিভাগ, উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশের নীরব ভূমিকায় জনসাধারণ ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আলকাছ বলেন, ‘আমার কিছু নিচু জায়গা আছে তা ভরাট করার জন্য পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। বর্তমানে আমি মানিক মিয়া ও রহিমের টিলা কাটছি। মানিক মিয়ার টিলায় পাথর হয়ে গেছে তাই অন্য একটি টিলা খুঁজছি।’ তবে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।


পরিবেশবিদ আব্দুল হাই আল হাদী জানান, সিলেটের উত্তর পূর্বাঞ্চল ভূতাত্তিক পাহাড়ি অঞ্চল। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক উন্নয়নের কাজে ১৯৯৬ সালে পাহাড় ও টিলার বিশাল অংশ বিলিন করে দেয়া হয়। বর্তমানে যে টিলাগুলো রয়েছে তা বিপন্ন হয়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে। পাহাড়কাটা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আশঙ্কা রয়েছে ভূমিকম্প বা লাগাতার বর্ষণের সময় ভূমিধস হয়ে বড় রকমের বিপর্যয় হতে পারে।

তাই তিনি পাহাড় খেকোদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

জৈন্তাপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, ‘আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। টিলা কাটার ব্যাপারে এখন কিছু বলতে পারছি না।’

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর ৬ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করতে পারবে না। তবে অপরিহার্য জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে পাহাড় বা টিলা কাটা যেতে পারে।

আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। সিলেটের ছয় উপজেলায় পাহাড় টিলা কাটা রোধে ২০১১ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। সিলেট সদর উপজেলা, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তাদের কারণ দর্শানোর জন্য ৯৭৫০/১১ একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১ মার্চ পাহাড় টিলা কাটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে উচ্চ আদালত রায় দেয়। এ আইনের মাধ্যমে অপরাধ দমনে জরুরি প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারবে।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.zoombox.kidschool


আরও পড়ুন

টিকা দেয়ার ১০ মিনিট পরে শিশুর মৃত্যু

Saiful Islam

শিক্ষকদের শাস্তিতে মাদ্রাসার ২০ শিশু অসুস্থ, আটক ৪

Saiful Islam

৩৮তম বিসিএস: ননক্যাডারে নিয়োগ পাচ্ছেন ৫৪১ জন

Saiful Islam

ফটোসাংবাদিক রেহেনা আক্তারের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর

Mohammad Al Amin

সরকার দাম বেঁধে দিলেও বেশি দামে আলু বিক্রি করতে দোকানিদের কৌশল

Mohammad Al Amin

ডিএমপির শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক গোলাম ফারুক

Shamim Reza