ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ এক মাস পার হয়েছে। চলমান এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিশ্ব অর্থনীতি দিন দিন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়ছে। বিশেষ করে অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি ও এলএনজি সরবরাহে দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন সংকট। যার প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ওপর পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান পরিস্থিতিতে আপাতত ৯০ দিনের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা করতে যাচ্ছে সরকার। পরিকল্পনার মধ্যে সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি এক দিন বাড়ানো অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ, অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনসহ আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সরকারের সব সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে। বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের নিজস্ব কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে। যেটি আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, বিশ্ব পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলে যেতে পারে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঠিক করা হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও আগেই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া দরকার ছিল। প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকও ডাকা যেতে পারে।
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রবিবার বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জানালা, দরজা বা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া অফিস চলাকালে শুধু প্রয়োজনীয় সংখ্যক লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখতে বলা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, অফিস কক্ষ ত্যাগের সময় বাতি, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুমসহ বিভিন্ন স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। অফিস সময় শেষে সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


