নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, নির্বাচনী কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচার চালাতে পারবেনা না। কেবল গণভোটে ভোট দেওয়ার কথা বলতে পারবেন।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী আচরণ বিধি ও ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা যা খবর পাচ্ছি এবং বাস্তবে আমরা মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে যেটুকু দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন মনে করে অতীতের অনেক নির্বাচনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের মাঠে পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার।
পাশাপাশি প্রতিনিয়তই আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আমাদের সাথে আসতেছেন। উনাদের পরামর্শ অবজারভেশন পর্যবেক্ষণ আমাদেরকে দিচ্ছেন। সে অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়াও আমাদের সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে আমাদের ইলেকট্রনিক প্রিন্ট মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে যে বিষয়গুলো আসতেছে, তাৎক্ষণিকভাবে আমরা রিটার্নিং অফিসারদের নজরে নিয়ে আসতেছি। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী রক্ষায় যারা নিয়োজিত রয়েছেন তাদেরকে এগুলো নিবারণসহ প্রতিরোধ এবং আইনানু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনের আওতায় আনার জন্য আমরা তড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছি।
তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে আসলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন মোবাইল কোড প্রতিদিনই তারা তাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট পাচ্ছি যে মিনিমাম ৫০, ৭০ টি কেস রুজু হচ্ছে, কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম আপনার জোর সোরে চলছে।
গণভোটের প্রচারের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। বাট পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।
সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে গণভোটের হ্যাঁ পক্ষে অবস্থানে এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান আমরা কারোর কাছে দায়বদ্ধ না।
সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন, সিসিটিভির আপডেটটা এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই। এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নিব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভিতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসবে। আসলে বলে আপনাদেরকে জানাবো।
দলগুলোর একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, যে অভিযোগগুলো ছিল প্রত্যেকটা অভিযোগই আমরা খুব মনোযোগের সাথে শুনেছি এবং প্রত্যেকটা অভিযোগের সমাধানের জন্য আমরা ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।
সুনির্দিষ্ট যে অভিযোগগুলো তারা যেগুলো দিয়েছেন প্রত্যেকটাই আমরা কনসারন রিটারনিং অফিসার এবং ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি কমিটির কাছে পাঠিয়েছি এবং সেই ক্ষেত্রে তারা আইন অনুযায়ী সেগুলোর ব্যবস্থা নিবেন।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, এখন আস্থা অনাস্থার বিষয়টি হচ্ছে এটা জনগণের বিষয়। তা আমরা তো মনে করি যে শতভাগ আস্থার সাথে জনগণ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে এবং একটা উৎসবমুখর পরিবেশ মাঠে ঘাটে নির্বাচনে প্রচারণা চলছে। এগুলো তো আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
ইনশাল্লাহ আগামী ১২ তারিখে এটি আপনারা সবাই দেখবেন জাতি দেখবে বিশ্ব দেখবে যে একটা সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনারা কি বলবেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলবো যে সবাই ভোট দেন। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। আপনার যাকে খুশি তাকে। নিশ্চয়তা শতভাগ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এবং এটার জন্য সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী তারপরে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, পুলিশ বাহিনী, আনসার বাহিনী এমনকি আমরা বিএনসিসি কেও আমরা অন্তর্ভুক্ত করছি, যাতে জনগণ বিশ্বাস করে যে নিরাপদে এসে ভোট কেন্দ্রে যাবে এবং ভোট দিয়ে এসে বাড়িতে ফিরবে এবং ভোট পরবর্তী সময়েও কোন উশৃঙ্খল বিশৃঙ্খল কোন ঘটনা ঘটবে না।
সংসদ নির্বাচনে ভোট, পোস্টাল ভোট একই সাথে গণভোট একই সাথে হবে। তো সেক্ষেত্রে ফলাফল পেতে আসলে কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হতে পারে ভোটারদের-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আমাদের দিক থেকে এই ভোট ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে এবং যেখানে যা প্রয়োজন লজিস্টিক্স যথাসময়ে এই রেজাল্টটা যাতে হয় সেই ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছি। অধিকাংশ রেজাল্ট মধ্যরাত্রের মধ্যে এসে যায় বেসরকারি ভাবে। এবারও তাই হবে। বড় জোর আপনার শেষ রাত্রের দিকে হবে বা পরের দিন হবে।
আরও পড়ুনঃ
জামায়াতের প্রার্থী এনায়েত উল্লার প্রচারণায় স্লোগান দিলেন দুই ব্রিটিশ নাগরিক
আচরণ বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত ১২৮টি নির্বাচনী এলাকায় তারা কার্যক্রম পরিচালনা করে আচরণবিধি ভঙ্গ হয়েছে ১৪৪ টা। এর প্রেক্ষিতে তারা বিভিন্ন মেয়াদে যে জরিমানা করেছেন সেটি হয়েছে ৯ লক্ষ ৫ হাজার ৫শ টাকা। মামলার সংখ্যা হয়েছে ৯৪ টা। এটি হচ্ছে গত ৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


