Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দখলদার ইসরায়েলে কট্টর ডানপন্থি নেতা বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান হচ্ছে। তার স্থলে প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এক সময়ে তারই প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেট। এই বেনেট নেতানিয়াহুর চেয়েও আরও বেশি কঠোর হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ তিনি পশ্চিম তীরে ইহুদিদের বসতি স্থাপনের ঘোর সমর্থক। এমনকি বর্তমান সংঘাতের জন্যও ফিলিস্তিনিদেরকেই দায়ী করছেন তিনি। খবর সিএনএন, বিবিসি, ডয়চে ভেলে ও দ্যা ওয়াশিংটন পোস্ট।

বেনেট এর আগে ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ছিলেন। সেনাবাহিনীতে কর্মরত বেনেটের অতীত রেকর্ডও বিধ্বংসী ও কঠোর। ১৯৯৬ সালের এপ্রিল মাসে, ইসরায়লের একটি বিশেষ ইউনিটের কর্মকর্তা হিসাবে, তিনি লেবাননের একটি গ্রামে হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সেই হামলার ফলে সেখানে শতাধিক বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরাইলে যে ব্যক্তিই ক্ষমতায় আসুক না কেন সহায়তা আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। খবর সিএনএন, বিবিসি ও আলজাজিরার। ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নাফতালি বেনেটের আবির্ভাব নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না পশ্চিম তীর ও গাজার ফিলিস্তিনিরা। এক জাতীয়তাবাদী নেতার স্থলে আরেক জাতীয়তাবাদী আসায় ফিলিস্তিন পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেও মনে করছে তারা।

পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন করা সংগঠনের সাবেক প্রধান বেনেটকে উগ্র জাতীয়তাবাদী হিসেবে দেখছে বেশির ভাগ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। সরকার গঠনের লক্ষ্যে বুধবার ইসরায়েলের ডান, বাম ও মধ্যপন্থি দলগুলো যে জোট করেছে তাতে কট্টর ডানপন্থি এ রাজনীতিকই ১২ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহুর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন। এ দুই নেতার মধ্যে নানান বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দুই জনই গত মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জন্য হামাসকেই দায়ী বলে মনে করেন। এমনকি বৃহস্পতিবারও নিজের অবস্থান লুকোননি বেনেট। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে তিনি বলেন, ‘সত্যিটা বলতেই হবে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের এই বিবাদ মোটেও জায়গা নিয়ে নয়। ফিলিস্তিনিরা এখানে আমাদের অস্তিত্বই স্বীকার করে না। আরো কিছু দিন এরকম পরিস্থিতি চলবে বলে মনে হয় আমার।’

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে অবস্থানই বেনেটকে ‘চিনিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট’ বলে মত ফিলিস্তিনি বিভিন্ন সংগঠনের কর্মকর্তাদের। ফিলিস্তিন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) প্রতিনিধি বাসেম আল-সালহি বলেছেন, ‘নেতানিয়াহুর চেয়ে মনোনীত প্রধানমন্ত্রীও কম উগ্রবাদী নন।’ প্রায় একই কথা শোনা গেছে অন্য কর্মকর্তাদের মুখেও। গাজার সরকারি কর্মী ২৯ বছর বয়সি আহমেদ রেজিক বলেছেন, ‘ইসরায়েলি নেতাদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। তারা তাদের দেশের জন্য ভালো কিংবা খারাপ হতে পারে। আমাদের জন্য তারা সবাই খারাপ।’

গাজা ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রক হামাসও বলছে, কে ইসরায়েল শাসন করছে, তাতে খুব একটা পার্থক্য দেখা যায় না। হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাশেম বলেছেন, ‘ফিলিস্তিনিরা ডান, বাম, মধ্যপন্থি নামে পরিচিত কয়েক ডজন ইসরায়েলি সরকার দেখেছে। কিন্তু যখনই ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের প্রশ্ন এসেছে, তখন তারা সবাই বৈরী আচরণ করেছে। তাদের সবারই সম্প্রসারণের বৈরী নীতি ছিল।’

এবার যে জোট সরকার ইসরায়েলের শাসনভার নিতে যাচ্ছে, তাতে প্রথমবারের মতো একটি ইসলামিক দলও থাকছে, যারা দেশটির ২১ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুর ভোটে পার্লামেন্টে জায়গা করে নিয়েছে। আরব এ সংখ্যালঘুরা কাগজে-কলমে ইসরায়েলের নাগরিক হলেও সাংস্কৃতিকভাবে ফিলিস্তিনি। ইসলামি এ দলটির নেতা মনসুর আব্বাস বলছেন, যে চুক্তির মাধ্যমে জোট হয়েছে তাতে আরব শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন ও সহিংস অপরাধ মোকাবিলায় ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে ‘শত্রুর সঙ্গে হাত মেলানোয়’ পশ্চিম তীর এবং গাজার বেশির ভাগ বাসিন্দাই এখন আব্বাসকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে দেখছেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.