বিশ্ব সংগীতের মঞ্চে কিছু নাম থাকে, যেগুলো শুধু শিল্পীর পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না—সময় আর প্রজন্ম পেরিয়ে সেগুলো হয়ে ওঠে অনুভূতির অংশ। শাকিরা ঠিক তেমনই এক নাম। আজ তার জন্মদিন। কোটি কোটি মানুষের প্লেলিস্টে, নাচের তালে আর স্মৃতির ভাঁজে যিনি বহু বছর ধরেই জায়গা করে নিয়েছেন, তার এই দিনে ফিরে তাকানো যায় তার দীর্ঘ, বহুমাত্রিক যাত্রার দিকে।

বিশেষ করে ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের থিম সং ‘Waka Waka (This Time for Africa)’ শাকিরাকে নিয়ে যায় এক ভিন্ন উচ্চতায়। সেই গান শুধু একটি আসরের সংগীত ছিল না, বরং তা হয়ে উঠেছিল বৈশ্বিক আনন্দের প্রতীক। ভাষা, সংস্কৃতি আর সীমান্ত পেরিয়ে একটি গানের মাধ্যমে মানুষকে একসঙ্গে নাচাতে পারা—এটা খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে।
কলম্বিয়ার বারানকিয়ায় জন্ম নেওয়া শাকিরার শৈশব থেকেই সুর আর ছন্দের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক। লেখক বাবার প্রভাব ছিল তার চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতায়। চার বছর বয়সে কবিতা লেখা, সাত বছর বয়সে গান রচনা—এসব ঘটনা তার প্রতিভার আগাম ইঙ্গিত দিয়েছিল। স্কুল জীবন শেষ হওয়ার আগেই সংগীত হয়ে ওঠে তার প্রধান পরিচয়।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে প্রকাশিত হয় তার প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘Magia’। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া এই অ্যালবামের বেশির ভাগ গানই ছিল তার নিজের লেখা। যদিও সেই অ্যালবাম বাণিজ্যিকভাবে বড় সাফল্য পায়নি, তবে এটি ছিল শাকিরার আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠার ভিত্তি। ধীরে ধীরে স্প্যানিশ ভাষার গানের মাধ্যমে লাতিন সংগীত অঙ্গনে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে ইংরেজি ভাষার অ্যালবাম তাকে নিয়ে যায় বৈশ্বিক সংগীতের মূলধারায়। ‘Whenever, Wherever’, ‘Hips Don’t Lie’ কিংবা ‘Try Everything’—প্রতিটি গানেই শাকিরার কণ্ঠ, নাচ আর ব্যক্তিত্বের আলাদা ছাপ স্পষ্ট। তিনি কখনো নিজেকে একটি নির্দিষ্ট ঘরানায় আটকে রাখেননি, বরং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে ভেঙেছেন, গড়েছেন।
তবে শাকিরাকে শুধু মঞ্চের আলোয় দেখলে তার গল্প অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শৈশবে স্থানীয় পার্কে অনাথ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কষ্ট তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই অনুভূতি থেকেই গড়ে ওঠে ‘Pies Descalzos Foundation’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে কলম্বিয়ার বহু দরিদ্র শিশু শিক্ষা, খাবার ও নিরাপদ পরিবেশের সুযোগ পেয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে শাকিরা প্রমাণ করেছেন, একজন শিল্পীর প্রভাব শুধু চার্টের শীর্ষে থাকা গানে সীমাবদ্ধ নয়। সংগীতের পাশাপাশি মানবিক কাজের মাধ্যমেও তিনি মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারেন। জন্মদিনে তাই তাকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তার এই দীর্ঘ, দায়িত্বশীল যাত্রাকে সম্মান জানানোই সবচেয়ে স্বাভাবিক।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


