Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশ সরকার কোটি কোটি টাকা আত্নসাত বা দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত পি. কে. হালদারকে ধরার জন্য পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। খবর বিবিসি বাংলার।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব প্রক্রিয়া শেষ করে কয়েকদিনের মধ্যেই এই নোটিশ পাঠানো হবে।

একটি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার বা পি. কে. হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরই তিনি বিদেশে পালিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ আইনজীবীরা বলেছেন, নজরদারির অভাবে দুর্নীতির বড় অভিযোগ থাকার পরও অনেকে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

পি. কে. হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ঢাকার আদালত যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে, তার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ পাঠানো হচ্ছে।

যদিও দুর্নীতির মামলাটি দুদক দায়ের করেছে, কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে ইন্টারপোলের কাছে নোটিশ পাঠাতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুলিশের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেছেন, অনেক আগেই পি. কে. হালদারের ব্যাপারে ইন্টাপোলকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ইন্টারপোলের চাহিদা অনুযায়ী এখন আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সহ বিভিন্ন তথ্য দেয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুদক আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পি. কে. হালদারের ব্যাপারে ইন্টারপোলকে জানিয়েছিল। তখন ইন্টারপোল জানায় যে, আদালতের আদেশ এবং মামলার বিস্তারিত লাগবে।

তিনি আরও বলেছেন, “দুদক ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে গ্রপ্তারি পরোয়ানা জারি করার জন্য প্রার্থনা করে। গত মাসের মাঝামাঝি সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। সেই আদেশে আদালত বলে দিযেছে যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা ইন্টারপোলকে জানাবে। সেখানে বলেই দিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হোক অতিসত্বর।”

পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের সাথে বাংলাদেশের পুলিশের ন্যাশনাল কাউন্সিল ব্যুরো যোগাযোগ রক্ষা করে থাকে।

এই ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মহিউল ইসলাম জানিয়েছেন, পি. কে. হালদারের ব্যাপারে ইন্টাপোলের কাছে রেড নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় তারা মামলার কাগজপত্র সহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য সংগ্রহ করছেন।

অল্প সময়ের মধ্যে তা শেষ করা সম্ভব হতে পারে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি. কে. হালদারের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ থাকার অভিযোগে এ বছরের শুরুতে মামলা করেছে দুদক।

মি. হালদার একটি লিজিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাদ্যমে অনেক গ্রাহকে কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়েছেন বলেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদকের আইনজীবী খোরশেদ আলম জানিয়েছেন, পি. কে. হালদার দেশে না থাকায় কোন আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন না। আইনত সে পলাতক আসামী। সেজন্য এখানে তার পক্ষে আইনজীবী নেই। তাকে আত্নসমর্পণ করে জেলে যেতে হবে অথবা জামিনে থাকতে হবে-তাহলে সে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবে।

খোরশেদ আলম উল্লেখ করেছেন, পি. কে. হালদার দুবাই অথবা সিঙ্গাপুরে পালিয়ে রয়েছেন।

এটি ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু মি. হালদার আসলে কোন দেশে পালিয়ে রয়েছেন, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য কর্তৃপক্সের কাছে নাই।

তার বিরুদ্ধে দুর্নিতির অভিযোগ নিয়ে যখন আলোচনা শুরু হয়, তখনই তিনি বিদেশে পালিয়েছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশে বড় অংকের অর্থ পাচার করার বিষয় নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রতিক হিসাবে কানাডার বেগমপাড়া এখানে ব্যাপক আলোচিত।

কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তরা কীভাবে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে-এই প্রশ্নও উঠেছে।

সুপ্রিমকোর্টের একজন আইনজীবী হামিদা চৌধুরী বলেছেন, “দুর্নীতির অভিযোগ প্রথমে অনুসন্ধান তারপর তদন্ত-দুই ভাগে ভাগ করে চালানো এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লেগে যায়। এই পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে অনেক অভিযুক্ত পালিয়ে যাচ্ছে।

“অভিযোগের প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায় থেকেই অভিযুক্তকে নজরদারিতে রাখা উচিত,” বলে তিনি মনে করেন।

দুদকের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোন অভিযোগের অনুসন্ধানে সত্যতা মিললে তখন মামলা হয় এবং তদন্তের প্রশ্ন আসে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরই তারা অভিযুক্তকে নজরদারির আওতায় আনতে পারেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.