জুমবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর লালমাটিয়া কলেজে পড়াকালীন ফেসবুকে প্রবাসী আজিজুর রহিমের সঙ্গে পরিচয় হয় তানিয়া আক্তারের। এরপর ২০১৭ সালে ভালোবেসে দুজন বিয়ে করেন। তবে প্রেমের বিয়ে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা একসঙ্গে থাকেন না।

নিহত তানিয়া আক্তার।ফাইল ছবি
Advertisement

স্ত্রী খুন হওয়ার পর মঙ্গলবার নিজেদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলাপকালে এমনটাই জানালেন আজিজুর।

গত রোববার দুপুরে হাজারীবাগ ১৭/১ মিতালি রোডের বাসার সপ্তমতলার কক্ষের ভেতরের বাথরুম থেকে তানিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।

এ ঘটনায় সোমবার তানিয়ার ভাই তন্ময় হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হাজারীবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার পর বাড়ির মালিক শাহিনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, তানিয়া ও বাড়ির মালিক শাহিনের মধ্যে অনেক আগে থেকেই একটা সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই হত্যাকারী হিসেবে সন্দেহের তালিকায় প্রথম অবস্থানে ছিলেন শাহিন।

তানিয়ার স্বামী আজিজুর বলেন, তার (তানিয়া) বাবার বাসা ছেড়ে শাহিনের ফ্ল্যাটে ওঠার বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি। প্রেমের সম্পর্কে বিয়ে হলেও আমাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। প্রথম থেকেই তানিয়া বাচ্চা নিতে চাইতো না। আমি তাকে একবার দুবাই নিয়ে যাই। সেখানেও সে থাকেনি। গত তিন বছর আমি দেশে চলে আসছি। কুমিল্লাতে থাকি কিন্তু তানিয়া বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকত। সে আমার কাছে ডিভোর্স চাইতো। বিষয়টি নিয়ে আমাদের দুই পরিবারও উদ্বিগ্ন ছিল।

তিনি আরও বলেন, তানিয়ার সঙ্গে আমার সর্বশেষ গত বুধবার কথা হয়। সে বলেছিল এক সপ্তাহের মধ্যেই কুমিল্লায় চলে আসবে।

শাহিনের বিষয়ে তিনি বলেন, তানিয়া মাঝে-মধ্যে শাহিনের সঙ্গে কথা বলত। আমি জানতে চাইলে বলত ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলেছে। আমি সরল মনে বিশ্বাস করতাম।

তানিয়ার মামা আলমগীর হোসেন দাবি করেন, হাজারীবাগ থানার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী ও পদধারী নেতা শাহিন। তানিয়াও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের দীর্ঘদিনের পরিচয়, অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে তারা একসঙ্গে প্রচারণাও চালিয়েছেন। তানিয়ার মা আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতি করেন। তানিয়াদের বাসায় শাহিনের নিয়মিত যাওয়া-আসা ছিল। সম্প্রতি ঘটা করে তানিয়ার জন্মদিনও পালন করেছেন শাহিন। স্বামী থাকার পরও শাহিনের বাসায় ওঠার বিষয়টিতে তিনিও অবাক হয়েছেন।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, তানিয়া রাজধানীর লালমাটিয়া কলেজে পড়াকালীন ফেসবুকে প্রবাসী আজিজুরের সঙ্গে পরিচয় হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ তাদের বিয়ে আমি নিজে থেকে দিয়েছি। তানিয়া স্বাধীনচেতা টাইপের ছিল।

পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, শাহিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। তবে তার পদ সম্পর্কে জানাতে পারেনি ওই সূত্র।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) বলেন, সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে বাড়ির মালিক শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তানিয়া ও শাহিনের মধ্যে অনেক আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শাহিনের রাজনৈতিক পদ-পদবি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.