
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম আস্থাভাজন এবং দক্ষিণ ভারতে বিজেপির সবচেয়ে পরিচিত মুখ কে আন্নামালাই শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতপার্থক্যের জেরে তিনি বিজেপির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার বিজেপি জানিয়েছে, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কয়েক দফা আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন অন্নামালাই। গত সপ্তাহে বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন অন্নামালাই। প্রথমে দলের জাতীয় সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দল ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানান। পরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দলের প্রভাবশালী সাংগঠনিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। তবে সেই আলোচনা শেষ পর্যন্ত তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে রাজি করাতে পারেনি।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অন্নামালাইয়ের আপত্তি ছিল। বিশেষ করে বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে বিজেপির জোট রাজনীতি নিয়ে তার অবস্থান ছিল ভিন্ন। অন্নামালাই মনে করতেন, তামিলনাড়ুতে বিজেপির নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হলে দলকে এককভাবে নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পুরোনো মিত্রদের সঙ্গে সমঝোতার পথেই এগোতে চেয়েছে। এই প্রশ্নেই মতবিরোধ ক্রমে গভীর হয় বলে জানা গেছে।
পদত্যাগপত্রে অন্নামালাই লিখেছেন, জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো তামিলনাড়ুর মানুষের ভাষা ও আবেগ যথাযথভাবে বোঝার চেষ্টা করেনি। তিনি সেই পরিস্থিতি বদলাতে কাজ করেছেন এবং নানা বাধা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন বলেও দাবি করেন। তিনি আরও জানান, দেড় বছর ধরে বিভিন্ন বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তার মতপার্থক্য ছিল। সেই বিষয়গুলো বারবার তুলে ধরা হলেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন না আসায় শেষ পর্যন্ত তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। একসময় পুলিশ প্রশাসনে থাকা অন্নামালাই ২০২০ সালে চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি বিজেপির অন্যতম উদীয়মান নেতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে তাকে তামিলনাড়ু বিজেপির নেতৃত্ব দেওয়া হয়। তার নেতৃত্বে দল দক্ষিণ ভারতে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ বিন্দুতে আসে।
এদিকে দলত্যাগের পর নতুন রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্নামালাই। পাশাপাশি তিনি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণাও দিয়েছেন। তবে বিজেপির বর্তমান রাজ্য নেতৃত্ব দাবি করেছে, অন্নামালাইয়ের প্রস্থানে দলের সাংগঠনিক শক্তির কোনো ক্ষতি হবে না। তারা মনে করছে, বিজেপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি এবং একজন নেতার বিদায়ে দলের অগ্রযাত্রা থেমে থাকবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



