২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক গাণিতিক পূর্বাভাস। জার্মান অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগ বিশ্লেষক Joachim Klement-এর তৈরি একটি অ্যালগরিদম বলছে, এবারের বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২ থেকেই বিদায় নিতে পারে ব্রাজিল।

ক্লেমেন্টের তৈরি মডেলটি শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও ভৌগোলিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ফলাফল অনুমান করে। এতে জিডিপি, জনসংখ্যা, জলবায়ু, খেলোয়াড়দের মার্কেট ভ্যালু এবং আয়োজক দেশের পরিবেশগত সুবিধার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রায় ৫৫ শতাংশ নির্ভুলভাবে বিশ্বকাপের ফল অনুমান করা সম্ভব।
মডেলটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। সেখানে নেইমার ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের দলকে হারিয়ে বড় অঘটন ঘটাবে জাপান।
ক্লেমেন্টের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জাপান দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। গত বছর তারা প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারানোর পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মতো দলকেও পরাজিত করেছে। দলের বর্তমান ফর্ম এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই পূর্বাভাস নিয়ে এত আলোচনা হওয়ার অন্যতম কারণ হলো ক্লেমেন্টের আগের সাফল্য। তার মডেল ২০১৪ সালে জার্মানি, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস সঠিকভাবে দিয়েছিল।
এবার তার অ্যালগরিদম বলছে, বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই ফাইনালে জিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে নেদারল্যান্ডস।
১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে শিরোপাবঞ্চিত হয়েছিল ডাচরা। ক্লেমেন্টের গাণিতিক হিসাব এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে নিজের মডেল সম্পর্কে ক্লেমেন্ট বলেছেন, এটি কোনো ‘জাদুর বল’ নয়। মূলত অর্থনীতিবিদদের সবকিছু অনুমান করার প্রবণতাকে ব্যঙ্গ করতেই ১২ বছর আগে তিনি এটি তৈরি করেছিলেন। যদিও টানা তিনটি বিশ্বকাপের পূর্বাভাস মিলে যাওয়ায় বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
আরও পড়ুনঃ
তিনি আরও বলেন, ফুটবল শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলা, যেখানে ভাগ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এখন দেখার বিষয়, ব্রাজিল সত্যিই জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কি না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



