Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বেশিরভাগ বিয়ে মানেই ভীষণ জাঁকজমক আয়োজন, প্রচুর খরচের ব্যাপার। সেখানে কোথায় কতটা ব্যয় হলো, কতটুকু কাজে লাগল, কতটুকু অপচয় হলো আর এসবের মধ্য দিয়ে পরিবেশ কতটা প্রভাবিত হলো তা যেন দেখার বিষয় নয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে আসছেন কেউ কেউ। কিছু কিছু পরিবার ও হবু দম্পতিকে দেখা যাচ্ছে অপচয় ও পরিবেশ দূষণ যতটা সম্ভব কমিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। তারই একটি উদাহরণ বিয়ের নিমন্ত্রণ জানাতে কার্ডের বদলে টবে করে ছোট গাছ উপহার দেয়া।

ভারতের মুম্বাইয়ে গত বছরের শুরুর দিকে এক নবদম্পতি রিসাইকেলড বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জাম দিয়ে তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সারেন। এই আয়োজনের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরিবেশবান্ধব বিয়ের বিষয়টি নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভোপালের অধিবাসী ব্যবসায়ী প্রাণশু কানকানে ও তার ভাই প্রতীক কানকানে।

ফলে যখন প্রাণশুর বিয়ে ঠিক হলো, নিজেদের ইচ্ছে পূরণের সুযোগ পেয়ে গেলেন দুই ভাই। দুইজনে মিলে ভেবে বের করতে লাগলেন, কীভাবে প্রাণশুর বিয়েতে অপচয় কমানো যায় এবং পরিবেশ দূষিত হয় এমন কাজ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা নিশ্চিত করা যায়।

প্রতীক বলেন, খাবার অপচয় এড়ানোর চিন্তা থেকেই এর শুরু। আমরা প্রথমে কাগজের কার্ডের বদলে ই-ইনভাইট পাঠানো শুরু করি এবং তাদের সবাইকে অনুরোধ করি যেন তারা যাবেন কিনা তা যেন আমাদের জবাব পাঠিয়ে নিশ্চিত করেন।

নিমন্ত্রণের জবাব পাঠানোর বিষয়টি নতুন কিছু নয়। কিন্তু ভোপালের জনগণ এখনো এতে খুব একটা অভ্যস্ত নন বলে জানান প্রতীক। তাই ই-কার্ড পাঠানোর ফলে একদিকে কাগজ খরচ করে কার্ড পাঠানো লাগল না। নিমন্ত্রণের জবাব দিতে কারও জবাবে চিঠি বা ফোন করা লাগল না, কিন্তু জবাব ঠিকই চলে এলো।

আবার কারা কারা অনুষ্ঠানে আসবেন তা নিশ্চিত হওয়ার ফলে খাবারের অপচয়ও কমানো সম্ভব হলো।

অভিনব এই বুদ্ধি তাদের বাবা রাজকুমার কানকানে পছন্দ করলেও মাকে খুশি করানো গেল না। মা বললেন, ‘তোমরা যদি বাড়ি বাড়ি গিয়ে কার্ড না দিয়ে আসো তাহলে আত্মীয় আর অন্য অতিথিদের সঙ্গে তো দেখা হবে না’ বলেন প্রতীক।

তাই মায়ের মন রক্ষার্থে ভাবতে ভাবতে হঠাৎ প্রাণশু-প্রতীকের মাথায় এলো ‘সবুজ নিমন্ত্রণ’ জানানোর বুদ্ধি। বিয়ের কার্ডের বদলে কার্ডে যেসব তথ্য ছাপা হতো, যেভাবে ছাপা হতো তা ছাপানো হলো সমসংখ্যক ছোট ছোট টবে। প্রতিটি টবে ৮ থেকে ১০ মাস বয়সী একটি করে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগানো ছিল। যেগুলো ৩ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত বাঁচে।

গাছসহ সেই টবগুলোই বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপহার দিলো বরপক্ষ। ফল হলো আশাতীত। অভিনব এই আইডিয়া ভীষণ পছন্দ করলেন সবাই। ৪শ’রও বেশি অতিথি বিয়েতে আসার বিষয়ে নিশ্চিত করলেন।

আমরা আশাই করিনি এমন প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবো। এমন নিমন্ত্রণ পেয়ে সবাই ভীষণ খুশি হয়ে গিয়েছিলেন। আমাদের কাছে যেহেতু ৪-৫ ধরনের গাছ ছিল, এমনকি তুলসিও, তারা নিজেদের পছন্দমতো গাছও বেছে নিয়েছিলেন, বলেন প্রতীক।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল একেকটি গাছের খরচ একটি বিয়ের কার্ডের সমান খরচের মধ্যে সীমিত রাখা। একেকটি ‘সবুজ নিমন্ত্রণে’র পেছনে খরচ হয়েছিল প্রায় ৬৮ রুপি। যা প্রতীকের দাবি অনুসারে একটি ভালো মানের বিয়ের কার্ডের দামের সমান।

তাদের আশা, এই প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে তারা অতিথিদের পরিবেশ সচেতন হতে অনুপ্রাণিত করতে পেরেছেন। নিমন্ত্রণের সঙ্গে অতিথিদের অনুরোধ করা হয়েছিল যেন কেউ ফুলের তোড়া না আনেন এবং খাবার নষ্ট না করেন।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mohammad Al Amin is a member of the iNews Desk editorial team, contributing to day-to-day news coverage with an emphasis on factual accuracy, responsible reporting, and clear storytelling. As part of the newsroom workflow, he works closely with editors and reporters to help produce timely, well-verified articles that meet iNews’ editorial and journalistic standards for a global readership.