Advertisement

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দিল্লির হাসপাতালে চিকিৎসা করতে আসা ক্ষুধার্ত গরিব মানুষের মুখে প্রতিদিন পুষ্টিকর অন্ন তুলে দিচ্ছেন গুরবিন্দর সিং ও তাঁর সংগঠন দিল্লি লঙ্গর সেবা সমিতি৷ মাসে পঞ্চাশ হাজার লোকের ক্ষুধা দূর করছেন তাঁরা৷

বড় রাস্তার একদিকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস বা এইমস, উল্টোদিকে সফদরজঙ্গ হাসপাতাল৷ রাজধানী দিল্লির সব চেয়ে বড় দুইটি সরকারি হাসপাতাল৷ প্রতিদিন কয়েক হাজার রোগী, তাঁদের আত্মীয় আসেন এখানে৷ তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগ গরিব মানুষ৷ এইমসের এক নম্বর গেটের আশপাশের ছবিই পরিস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে৷ রাস্তার পাশের ফুটপাথেই বসে কয়েকশ মানুষ৷ একপাশে দিল্লি সরকারের রেন বসেরা, মানে রাতে গরিবদের ঘুমনোর জায়গা৷ কিন্তু তাতে খাবার পাওয়া যায় না। পুষ্টিকর ভরপেট খাবার পাওয়া তো দূরের কথা৷ বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান থেকে আত্মীয় পরিবার নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছেন বহু মানুষ। দামি খাবার কিনে খাওয়া তাঁদের পক্ষে অসম্ভব।

এই অবস্থায় গত পাঁচ বছর ধরে গরিব রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মুশকিল-আসান হয়ে দেখা দিয়েছে দিল্লি লঙ্গর সেবা সমিতি৷  দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালের সামনে  বিনা পয়সায় তাঁরা দিচ্ছেন পুষ্টিকর খাবার৷ মাসে অন্তত ৫০ হাজার অভুক্ত মানুষের মুখে তাঁরা অন্ন তুলে দিচ্ছেন৷

এইমসের সামনে একটু প্রার্থনার পর শুরু হল খাবার বিতরণ৷ পরিবেশ বান্ধব প্লেটে চারটি রুটি, ডাল, সুজি, এক প্যাকেট বিস্কিট ও জল৷ এই জলও পরিশুদ্ধ৷ রাস্তায় পাত পেতে বসে গিয়েছেন অনেকে। সেখানে তাঁদের পাতে খাবার তুলে দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা৷ আলাদা লাইনেও খাবার দেওয়া চলছে৷ বিপন্ন মানুষের মুখে ফুটে উঠছে তৃপ্তির হাসি৷ আর সেই তৃপ্তি ছড়িয়ে যাচ্ছে সেবা সমিতির সেবকদের মুখেও৷

পাঁচ বছর আগে এইমসের পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে লোকের অবস্থা দেখে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন গুরবিন্দর সিং ভিকি৷ পেশায় ব্যবসায়ী৷ তাঁর মনে হয়েছিল, এই গরিব মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া উচিত৷ সেই থেকে শুরু৷

গুরবিন্দর জানিয়েছেন, ”এখন দিল্লির এগারোটি হাসপাতালের সামনে আমরা লঙ্গর করে খাবার দিই৷ সব দিন পারি না। তবে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি হাসপাতালে এক থেকে দুই দিন বিনা পয়সায় রোগী ও আত্মীয়দের মুখে খাবার তুলে দিই৷ এইমস ও সফদরজঙ্গে আমরা ভিতরে ঢুকতে পারি না বলে বাইরেই সেবা করি৷ অন্য হাসপাতালে তো ভিতরে গিয়ে খাবার দিয়ে আসি৷ মাসে অন্তত ৫০ হাজার লোকের মুখে খাবার তুলে দিই৷ তিনশ জন স্বেচ্ছাসেবক আমাদের সঙ্গে আছেন৷” পয়সা কোথা থেকে পান? গুরবিন্দারের জবাব, ”শুরু করেছিলাম নিজের পয়সায়৷ তারপর অনেক লোক পয়সা দিচ্ছেন, বেশ কিছু কোম্পানি সাহায্য করছে৷ আমরাও পরিধি বাড়িয়ে যাচ্ছি৷”

বাইরে তখন লাইন লম্বা হচ্ছে৷ গুড়গাঁও থেকে নিয়ে আসা মেশিনে তৈরি রুটি তখনও গরম৷ গরম ডালও৷ খিদেরমুখে তা অমৃতসমান৷ বিহার থেকে এসেছেন মাঝবয়েসী অলোক৷ হাসপাতালের ভিতরে চিকিৎসাধীন ভাই৷ তিনি বাইরে বসেছিলেন৷ লঙ্গর দেখে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন লাইনে৷ সুস্বাদু খাবার খাওয়ার পর অলোক জানিয়েছেন, ”মনে মনে কৃতঞ্জতা জানিয়েছি এবং প্রার্থণা করেছি, ওদের ভালো হোক৷”

এই শুভকামনা, প্রার্থনাই তাঁদের মূলধন বলে জানিয়েছেন গুরবিন্দর৷ এইমসের সামনে প্রায় হাজার খানেক লোকের মুখে পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়ার পর তাঁর প্রার্থনা হল, ‘‘কামনা করবেন, যেন আরও লোকের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারি৷ খিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিছুটা যেন সাফল্য পাই৷’’ সূত্র : ডয়চে ভেলে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.