নিউইয়র্কে প্রতি বছরের মতো এবারও জমকালো আয়োজনে বসেছিল মেট গালা ফ্যাশন, সংস্কৃতি আর শিল্পের এই মিলনমেলায় বিশ্বজুড়ে তারকাদের নজরকাড়া উপস্থিতির ভিড়ে আলাদা করে আলোচনায় উঠে আসেন ভারতের ব্যবসায়ী ইশা আম্বানি।

সোমবার রাতে Metropolitan Museum of Art-এর লাল গালিচায় তার উপস্থিতি যেন এক নিঃশব্দ কিন্তু গভীর বার্তা বহন করছিল—ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার এক সচেতন প্রয়াস। চোখ ধাঁধানো পোশাকের এই ভিড়ে তার লুক ছিল খানিকটা ভিন্ন, কিন্তু ঠিক সেই কারণেই তা বেশি নজর কেড়েছে।
ইশার পরনে ছিল ডিজাইনার Gaurav Gupta-র তৈরি একটি বিশেষ শাড়ি। এই শাড়িতে আধুনিক ডিজাইনের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ভারতীয় ঐতিহ্যের সূক্ষ্ম ছোঁয়া। খাঁটি সোনার সুতা দিয়ে তৈরি এই পোশাকটিতে প্রাচীন ফ্রেস্কো এবং পিচওয়াই শিল্পের অনুপ্রেরণা স্পষ্ট ছিল। জারদৌজি, আরি আর রিলিফ এমব্রয়ডারির নিখুঁত কাজ পুরো লুকটিকে একধরনের জীবন্ত শিল্পকর্মে পরিণত করেছে।
এই পোশাক তৈরিতে সময় লেগেছে প্রায় ১,২০০ ঘণ্টা। কাজ করেছেন ৫০ জনেরও বেশি কারিগর। এমন নিখুঁত কারুকাজ যে সহজে তৈরি হয়নি, তা দেখলেই বোঝা যায়।
তার ব্লাউজেও ছিল আলাদা চমক। এতে ব্যবহৃত হয়েছে ২০০টিরও বেশি পুরোনো কাট হীরা, যা এসেছে Nita Ambani-র ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে। গলায় ছিল ২৫০ ক্যারেটেরও বেশি ওজনের ডাবল-লেয়ার ডায়মন্ড নেকলেস, সঙ্গে হাতফুল আর কোমরবন্ধ—সব মিলিয়ে এক রাজকীয় উপস্থিতি।
অ্যাক্সেসরিজেও ছিল ভিন্নতা। ইশা হাতে নিয়েছিলেন শিল্পী Subodh Gupta-র তৈরি আমের ভাস্কর্য-সংবলিত একটি ক্রোশে ব্যাগ। এতে ভারতীয় কারুশিল্পের একটি প্রতীকী উপস্থাপন দেখা যায়।
তার হেয়ারস্টাইলেও ছিল সৃজনশীলতার ছাপ। শিল্পী Saurabh Gupta হাতে তৈরি কাগজ, তামা আর পিতলের মিশেলে গাজরা-অনুপ্রাণিত এক ভাস্কর্য যুক্ত করেছিলেন চুলে, যা পুরো লুকটিকে আরও শিল্পময় করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ
সব মিলিয়ে, এবারের মেট গালায় ইশা আম্বানির উপস্থিতি ছিল শুধু ফ্যাশনের প্রদর্শনী নয়, বরং ঐতিহ্য, কারুশিল্প আর আধুনিকতার এক সংলাপ। বিশ্বমঞ্চে এই উপস্থাপন আবারও মনে করিয়ে দিল—ফ্যাশন কেবল পোশাক নয়, এটি একটি গল্প বলার মাধ্যমও।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।

