in

মেয়াদ শেষ হলেও মোবাইলে ইন্টারনেটের ডাটা না কাটার নির্দেশ

জুমবাংলা ডেস্ক : মোবাইল ইন্টারনেটের ডাটার মেয়াদ বাড়াতে ও মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই ডাটা কেটে না নিয়ে পরবর্তী কেনা ডাটা প্যাকেজের সঙ্গে পুনরায় ফিরিয়ে দিতে মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

সোমবার (০২ আগস্ট) দেশের মোবাইল অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকি করতে যন্ত্রপাতি কেনা সংক্রান্ত এক চুক্তি শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মোবাইল অপারেটরগুলো আগে এই ডাটা ফেরত দিত। আমি নিজেও এই ডাটা ফেরত পেয়েছি। কিন্তু এখন তারা কেন দেয় না, তাদের কাছে এই প্রশ্নটা আমারও।

মন্ত্রী বলেন, আমি আরও বলেছি যে আজেবাজে মেয়াদ দিয়ে যে মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজ করা হয় সেটা যেন এখন থেকে আর না করে। সেই সঙ্গে আরও বলেছি যে তারা যেন কল ড্রপের টাকা ফেরত দেয়। কারণ, এটা যুক্তিসঙ্গগতভাবে ভোক্তার অধিকার। সেই অধিকার তাদের দিতে হবে। একচেটিয়া ভাবে প্রফিট করার জন্য কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

এদিকে, সোমবার (২ আগস্ট) বিটিআরসি কার্যালয়ে মোবাইল অপারেটরদের কার্যক্রম তদারকি করতে কানাডাভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান টিকেসি টেলিকম এবং বিটিআরসি’র মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া বিটিআরসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের কমিশনার প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন।

বিটিআরসি’র পক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক মো: গোলাম রাজ্জাক ও টিকেসি টেলিকমের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির তালহামি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে চুক্তি স্বাক্ষরের ১৮০ দিনের মধ্যে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

এছাড়া, চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিটিআরসি’র ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগে: জেনারেল মো. এহসানুল কবীর এবং টিকেসি টেলিকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির তালহামি বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মোবাইল অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।

৭৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম ক্রয়ের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রদত্ত উপস্থাপনা থেকে জানা যায় যে, সিস্টেমটি বাস্তবায়িত হলে মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় হবে। একইসাথে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য বাস্তব সময়ে (real time) পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

এতে ভয়েস ও ডাটা ট্রাফিক, নেটওয়ার্ক ব্যবহার এবং মান সম্পর্কিত তথ্য সর্বোপরি বিটিআরসি’র প্রাপ্য রাজস্ব সম্পর্কে নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে। ফলে বিটিআরসি’র নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে এবং সরকারের নিকট প্রতিবেদন পেশ ব্যবস্থা আরও দক্ষ এবং দ্রুত হবে।

শহর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চল, দ্বীপ, হাওড়-বাওড়, উপকূলীয় অঞ্চল ও দূর্গম এলাকার টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এর প্রকৃত অবস্থা তাৎক্ষনিক যাচাই করা সম্ভব হবে। অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিং এর মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সেবার মান আরও সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে এবং গ্রাহক সেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।

অপারেটররা বাস্তবে যেসকল ট্যারিফ বাস্তবায়ন করছে এবং এসকল ট্যারিফ প্যাকেজ বিটিআরসি কর্তৃক অনুমোদিত কি না অথবা গ্রাহকেরা অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হবে এবং এ বিষয়ক অভিযোগসমূহের নিষ্পত্তি কার্যকরভাবে করা সম্ভব হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। সরকারের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নানাবিধ অবকাঠামোগত ব্যবস্থা ও সেবার সঠিক মান উন্নয়নে সিস্টেমটি কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

অনলাইনে খুব সহজে টাকা ইনকাম করার উপায়