
ভুক্তভোগীরা জানান, মাসখানেক আগে জীবননগর পৌর শহরের লক্ষীপুর মিলপাড়ায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করে ‘মানব কল্যাণ সংস্থা’। সংস্থাটি শুরুতেই বিভিন্ন গ্রামের হতদরিদ্র, অসহায় নারীদের সংগঠিত করে সহজ কিস্তিতে ঋণ দেয়ার জন্য সমিতি গঠন করে। প্রতিটি সমিতিকে নেতৃত্ব দিতে সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে সভাপতি নির্বাচন করে। এরপর বাকি সদস্যদের যত বেশি সঞ্চয়, তত বেশি ঋণ। কুটির শিল্পের ওপর প্রশিক্ষণ, পণ্য তৈরির উপকরণ, সেলাই মেশিন দেয়াসহ নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখায়। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৫০০০-১০০০০ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয় আদায় করে। এসব প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে অসহায় গ্রাহকরাও হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল বিক্রি করে টাকা জমা দেন ‘মানব কল্যাণ সংস্থা’য়।
কন্দর্পপুর গ্রামের স্ত্রী অন্তরা খাতুন, নাসিমা বেগম, মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘মানব কল্যাণ সংস্থা’র ম্যানেজার ও মাঠকর্মী এসে আমাদের মোটা অঙ্কের ঋণ দেয়ার কথা বলে। আমরা তাদের বিশ্বাস করি এবং গ্রামের অনেক নারীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে ‘মানব কল্যাণ সংস্থা’য় জমা দেই। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তারা ঋণ না দিয়ে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষ বুধবার ঋণ দেয়ার কথা বলেন সংস্থার কর্মকর্তারা। আমরা দুপুরে এনজিওর অফিসে গেলে দেখি তালা মারা। পরে ম্যানেজারকে কল দেই কিন্তু তিনি রিসিভ করেন না। খবর পেয়ে শত শত গ্রাহক এনজিওর অফিসের সামনে ভিড় করেন।
গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক মিনারুল ইসলাম বলেন, আমার স্ত্রীসহ গ্রামের বহু নারীর কাছ থেকে সঞ্চয়ের নামে লাখ টাকা নিয়ে ‘গাট্টি-বস্তা’ বেঁধে উধাও হয়ে গেছে ‘মানব কল্যাণ সংস্থা’র লোকজন। আমি এ প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার ও বিচার চাই।
জীবননগর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, শত শত নারীর সঞ্চয়ের টাকা হাতিয়ে নিয়ে এনজিও ‘মানব কল্যাণ সংস্থা’র লাপাত্তা হওয়ার বিষয়ে দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



