লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

শীতে যেসব খাবার অবশ্যই খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শীতে এলেই বাড়ে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। তবে বাড়িতে বসে যদি শরীরের যত্ন নেওয়া, খাবারের বিষয়ে সচেতন হওয়া যায় তাহলে আর এই ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগতে হয় না। আবার শীত মানেই যে ডায়েট বাদ দিয়ে মনের সুখে খাওয়া-দাওয়া করবেন, এমনটা হলে মুশকিল হতে পারে। শীতে খাওয়ার নিয়ম ঠিকঠাক না মেনে চললে একদিকে যেমন শারীরিক সমস্যা দেখা দেবে। খাবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই শীতে খাবার খাওয়ার প্রতি খাবার বাছাইয়ে সচেতন হোন।

স্যুপ
শীতে শরীর সুস্থ রাখতে স্যুপ বা ঝোল দারুণ উপকারী। শীতেই মেলে স্যুপের আসল মজা। ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গরম-গরম চুমুক। শীতের বিকেলে বা রাতের খাবারে ধোঁয়া ওঠা এক বাটি স্যুপ হলে কিন্তু মন্দ হয় না। এতে শরীর থেকে একটু হলেও কাটবে ঠাণ্ডার রেশ। শরীর সুস্থ রাখতে শীতের সময় নানা সবজি আর মুরগির মাংস বা ডিম দিয়ে বানিয়ে খেতে পারেন স্যুপ।

মূলজাতীয় সবজি
শীতে রোগবালাই দূর করতে এ মৌসুমের মূল জাতীয় সবজি দারুণ কার্যকর। বিট, মিষ্টি আলু,গাজর, শালগমের মতো নানা সবজি শীতে আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে। এসব সবজিতে থাকা ভিটামিন ও নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। এগুলো ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়াতে এবং খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এসব সবজি শীতকালে দেহের উষ্ণতা বাড়াতে সাহায্য করে।

টক ফল
শরীরে ফাইবার বা আঁশের ঘাটতি মেটাতে ও ভিটামিন সির জোগান দিতে শীতের সময় বেশি করে টকজাতীয় ফল খেতে পারেন। কমলা, বরই, পেয়ারা হতে পারে ভিটামিন সির দারুণ উৎস। পেয়ারায় আরও অনেক বেশি ভিটামিন সি থাকে, যা অনেক বেশি প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে আরও থাকে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি ও পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের তথ্য অনুযায়ী, বরইয়ে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ আছে নানা কিছু। রোগ প্রতিরোধে যেমন ভূমিকা রাখে, অন্যদিকে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয়। বরই সবার জন্য ভালো হলেও ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য কিন্তু না। পাকা বরইয়ে চিনি থাকে, তাই ডায়াবেটিসের রোগীদের পাকা বরই না খাওয়াই ভালো।


পালং
শীতে বাজারে পালং শাক প্রচুর পাবেন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শীতে সুস্থ থাকতে পালং শাক খেতে পারেন। পুষ্টিতে ভরপুর পালংয়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ক্যানসারপ্রতিরোধী গুণের কারণে এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত। সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমাতে পারে। পালংয়ে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, এতে ক্যালরি থাকে কম। তাই ওজন কমাতে খাবারে বেশি করে পালং রাখতে পারেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁদের ওজন বেশি, তাঁরা নিয়মিত পালং শাক খেলে বাড়তি ওজন কমে যায়।

মাছ ও শিম
শীতে বেশি করে মাছ খান। আমিষের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন দুই বেলা মাছ খান। খাবারে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন সামুদ্রিক মাছ রাখুন। এ ছাড়া মাছের সঙ্গে শিম যুক্ত করে খেতে পারেন। মাছের ঝোলে শিম মানিয়ে যায়। ভর্তা হিসেবেও অনন্য। শিম শুধু রসনাবিলাসই করে না, তার অন্য গুণও আছে। পথ্যবিদ শামছুন্নাহার নাহিদের তথ্যানুযায়ী, শিম প্রচুর পরিমাণ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন আর মিনারেলে সমৃদ্ধ। যাঁরা সরাসরি প্রোটিন খান না, অর্থাৎ মাছ-মাংস খাওয়া হয় না, তাঁদের জন্য শিমের বিচি শরীরে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে পারে। যাঁদের আমিষ খাওয়ায় সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাবেন। আর এই শীতে নিয়মিত শিম খেলে ত্বকও ভালো থাকবে।

এছাড়া শীতে মাত্র কয়েকটি খাবারে আপনার এই শীতকাতুরে অনুভূতিটা হয়ে উঠতে পারে উষ্ণ। খাবারগুলো শরীরের ভিতর থেকে আপনাকে উষ্ণতা যোগাতে পারে। শীতকালে শরীরকে গরম রাখার জন্য কয়েকটি খাবার অত্যন্ত উপযোগী। তাহলে আসুন সেই খাবারগুলো সম্পর্কে জেনে নেই।

মরিচ
মরিচের মধ্যে ক্যাপসাসিন নামের এক ধরনের উপাদান থাকে যা ত্বকে জ্বালা অনুভূতি দেয় এবং শরীরকে শীতকালে গরম রাখে।

পেঁয়াজ
আপনাকে ঘামিয়ে দিতে পেঁয়াজের কিন্তু একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। পেঁয়াজ শরীরকে গরম রাখার পাশাপাশি শীতজনিত অনেক রোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আদা চা
শীতকালে নিজেকে গরম রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হল এক কাপ আদা চা। এই আদা চা খাওয়ার পরেই আপনি পার্থক্যটা বুঝবেন। আগের চেয়ে গরম লাগতে শুরু করবে।

হলুদ
হলুদ অ্যান্টিসেপটিক হওয়ার পাশাপাশি হলুদে এমন উপকরণ থাকে যাতে শীতকালে ঠান্ডাটা কম লাগে। তাই শীতকালে সব রান্নাতেই হলুদ দিন।

মশলাদার স্যুপ
শীতের সন্ধ্যায় গরম স্যুপ শরীরকে গরম রাখতে সাহায্য করে। সঙ্গে সবজির পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে।

মশলা
মশলাদার রান্না শরীরকে গরম রাখে। কিন্তু তা বলে বেশি পরিমাণে মশলাদার খাবার খাওয়া উচিত নয়। শরীর গরম করে আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই মশলাদার খাবার খেলে অনুপাতে জল খেতে হবে।

শুকনো ফল
খেজুর, অ্যাপ্রিকট এবং অন্যান্য শুকনো ফল আপনার শরীরের যন্ত্রসমূহকে গরম ও স্বাভাবিক রাখে।

লাল মাংস
খাসি ও গরুর মাংস শরীরের তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তবে তা বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : http://bit.ly/2FQWuTP


আরও পড়ুন

শরীরে যে কারণে দুর্গন্ধ হয়

Shamim Reza

বিচ্ছেদ ঠেকানোর দুর্দান্ত উপায় জানালেন গবেষকরা

Shamim Reza

ত্বকের যত্নে ব্যবহার করুন টমেটো

Mohammad Al Amin

শরীরের শক্তি বাড়াতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যুক্ত করুন এই খাবারগুলো

Mohammad Al Amin

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে পেয়ারা

Sabina Sami

মনকে শান্ত করতে মেডিটেশন

Mohammad Al Amin