রমজানের প্রথম দিন থেকেই রাজধানী উত্তরার আবাসিক এলাকার মোড়ে মোড়ে বসেছে ইফতার সামগ্রী বেচাকেনার স্টল। প্রতিদিন বিকালে সড়কের পাশে অস্থায়ী স্টল, ভ্যান ও টেবিলে ইফতারি আইটেম সাজিয়ে বসেন বিক্রেতারা। ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, ডালপুরি, হালিম, মুড়ি-মাখা, খেজুর, শরবত ও জিলাপিসহ নানা ধরনের খাবার কিনতে ভিড় করছেন উত্তরার আবাসিক এলাকার বাসিন্দারাও।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উত্তরা ৩, ৪, ৭, ৯ ও ১১ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে প্রতিদিন বিকাল ৩টার পর থেকে শুরু হয় ইফতার বেচাকেনা। বিশেষ করে আসরের নামাজের পর অফিস ছুটির সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রোজাদারদের ইফতার কেনার দৃশ্য বেশ চোখে পরার মতো। ক্রেতারা বলছেন, বাসায় তৈরি ইফতারের সঙ্গে বাইরে থেকে অতিরিক্ত কিছু আইটেম যোগ করতেই ইফতারের দোকানে আসা। আর এতেই প্রতিদিন ইফতারের আগ পর্যন্ত ইফতারি বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করেন দোকানিরাও।
এলাকাঘুরে দেখা যায়, ইফতার আইটেম বেচাকেনায় সবচেয়ে জমজমাট উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর জমজম টাওয়ার এলাকা। আশপাশে একাধিক আবাসিক সেক্টরের বাসিন্দাদের বসবাস ও বিভিন্ন অফিস-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকায় গড়ে ওঠেছে একাধিক ইফতার স্টল। এছাড়াও ৩ নম্বর সেক্টরের ২নং রোড, ১২ নম্বর সেক্টর খালপার, উত্তরা রাজলক্ষী ৪ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠা স্টলগুলোতে জমজমাট এবারের ইফতার কেনাবেচা।
জমজম টাওয়ারের পেছনের গলির ইফতার বিক্রেতা মো. রফিকুল আলম যুগান্তরকে বলেন, রমজান শুরুর পর থেকেই বিক্রি ধীরে ধীরে বাড়ছে। প্রতিদিন দুপুরের পর প্রস্তুতি শুরু করি। ছোলা, পিঁয়াজু আর বেগুনির চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিকাল ৪টার পর ভিড় বাড়ে। ইফতারের ৩০ মিনিট আগে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। আলহামদুলিল্লাহ। প্রতিদিন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পাশেই রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে হালিম বিক্রেতা আব্দুল মালেক জানান, সকাল ৮টা থেকে রান্না শুরু করি। গরুর মাংস, ডাল ও মসলা দিয়ে বড় পাত্রে হালিম প্রস্তুত করা হয়। বিকাল ৪টার পর বিক্রি শুরু করি। প্রতি বাটি হালিমের দাম ২৫০ থেকে শুরু এবং ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টর কেন্দ্রীয় মসজিদের উলটোপাশে জিলাপি বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম বলেন, দুপুর ২টা থেকে জিলাপি বানানো শুরু করি। অনেকে গরম জিলাপি পছন্দ করেন। তাই অর্ডার অনুযায়ী বানাই। প্রতিদিনের বিক্রির ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইফুল জানান, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ কেজি পর্যন্ত জিলাপি বিক্রি করি। আলহামদুলিল্লাহ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেশি হয়।
এদিকে, ইফতার কিনতে আসা ১১ নম্বর সেক্টরের ২নং রোডের বাসিন্দা শাহিন মিয়া যুগান্তরকে বলেন, বাসায় সবকিছু তৈরি করা সম্ভব হয় না। হালিম বা জিলাপি বাইরে থেকে কিনলে সময় বাঁচে। তাই জিলাপি কিনতে এসেছি।
৯ নম্বর রোডের ৩৮নং বাড়ির বাসিন্দা সৈয়দ আসাদুজ্জামান বলেন, বাসায় গ্যাস না থাকায় বেশিরভাগ সময়ই বাইরে থেকে ইফতার কিনি। পরিবারে ৭ জন সদস্য রয়েছে। প্রতিদিন ইফতার কিনতে ন্যূনতম ৪০০ টাকা লাগে।
তবে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় ইফতার কেনাবেচায় স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রকাশ করে সেক্টরের ৮ নম্বর রোডের বাসিন্দা নাজমা আক্তার বলেন, খোলা জায়গায় খাবার বিক্রি হয়। অনেক সময় ধূলাবালি পড়ে। তবুও প্রয়োজনের কারণে কিনতে হয়। তবে দোকানগুলোর আরও বেশি ঢাকনা দিয়ে খাবারগুলো ঢেকে রাখা উচিত। বিক্রেতারাও বলছেন, সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রেখেই ইফতার আইটেম বিক্রি করছেন তারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


