
তিনি আরো বলেন, ‘আমি এতো বড়ো ঘটনার কোন কিছুই আগে থেকে জানতাম না। এরকম ঘটনা ঘটবে জানলে আমি তুহিনকে বুক দিয়ে আগলে রাখতাম। আমার কোন সন্তান তাদের কাছে নিরাপদ না। আমি তাদেরকে বিশ্বাস করি না। আমি আর কিছু চাই না শুধু ফাঁসি চাই।’
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কেজাউড়া গ্রামে আধিপত্য বিস্তারের জেরে নৃশংস কায়দায় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিনকে খুন করা হয়। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তুহিনের স্বজনরাই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিল- এমনটাই বলছেন গ্রামের আপামর মানুষ।
তুহিনের মা বলেন, ঘটনার সময় আমি আমার সদ্যজাত সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। পরে ঘরের সবার চিৎকারে জেগে ওঠে দেখি আমার তুহিন বিছানায় নাই। পরে যখন জানতে পারি আমার তুহিনকে নির্মমভাবে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তারপর থেকে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আর কিছু বলতে পারি না।
সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের কর্ণগাঁও মোড় থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কেজাউড়া। গ্রামের মধ্যভাগে মো. মাওলানা আব্দুল মচ্ছবির পূর্বপুরুষ মহিম উদ্দিন তালুকদারের নামে বাড়ির নামকরণ করা হয়েছে। সে ঘরে বাস করেন নিহত শিশু তুহিনের বাপ চাচারা। গ্রামটি অশান্ত হয়ে ওঠে গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি গোষ্ঠীর অর্ন্তদ্বন্দ্বে। অর্ন্তদ্বন্দ্বে একপক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার আর অপর পক্ষে মাওলানা আব্দুল মুচ্ছাব্বির। এই অর্ন্তদন্দ্বের সর্বশেষ নির্মম শিকারে পরিণত হয় ৫ বছর বয়সী শিশু তুহিন। মুছাব্বির শিশু তুহিনের চাচা।
এর আগে ২০০১ সালে মুজিবুর নামের এক কৃষক ও ২০১৫ সালে খুন হন নিলুফা নামের এক গৃহবধু। দুটি খুনের ঘটনাতেই রয়েছে বিবাদমান দুটি পক্ষের বিরুদ্ধে পরস্পরকে ফাঁসানোর অভিযোগ। মুজিব খুনের ঘটনায় আসামি করা হয়েছিল শিশু তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরকে। অপরদিকে গৃহবধু নিলুফা হত্যা মামলায় আনোয়ার মেম্বার পক্ষের ১৬ জনকে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



