
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যে পাকিস্তানের দৃঢ় সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ইরান। সোমবার (১৭ মার্চ) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে পাকিস্তান সরকার ও জনগণের অটল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স এক পোস্টে তিনি লেখেন, “এই পবিত্র ও আধ্যাত্মিক দিনে আমি পাকিস্তান সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তারা আমেরিকা ও ইসরায়েলের শাসনের আগ্রাসনের মুখে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সরকার ও জনগণের সঙ্গে জোরালো সংহতি প্রকাশ করেছে।”
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা চালায়, যা তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করেছিল। পরে এই হামলা দ্রুত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। এর জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ও মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করে।
এই যুদ্ধের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো ব্যাহত হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি—যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ। এতে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সংঘাত এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাজার ও পরিবহন ব্যবস্থাও গুরুতরভাবে প্রভাবিত হয়েছে। তেলের দাম বেড়ে গেছে; অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০৪ ডলারেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচলও ব্যাহত হয়েছে, কারণ দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিমানকেন্দ্রগুলোতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
বিভিন্ন সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে যে এই সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি নিরাপত্তা, বিমান চলাচল এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর ধারাবাহিকভাবে পড়তে পারে। অন্যদিকে ইরান বলেছে, প্রয়োজন হলে তারা দীর্ঘ সময় ধরে নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত।
এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের ওপরও সরাসরি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
পাকিস্তান এই সংঘাতের মধ্যে সতর্ক কিন্তু সমর্থনমূলক অবস্থান বজায় রেখেছে। দেশটি সংযম ও সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে, তবে সরাসরি সামরিকভাবে জড়ায়নি।
ইসলামাবাদ থেকে জানানো হয়েছে, পাকিস্তান ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। দেশটির কর্মকর্তারা ও জননেতারা দুই দেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানের ভূমিকা মূলত কূটনৈতিক। তারা তেহরানকে নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে উত্তেজনা কমাতে ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


