পারস্য উপসাগর আর হরমুজ প্রণালীর উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন নৌবাহিনীর এক রহস্যময় চাল বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। বাহরাইনে মোতায়েন থাকা দুটি অত্যাধুনিক মাইনরোধী যুদ্ধজাহাজ হঠাৎ করেই কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে মালয়েশিয়ার উপকূলে আবির্ভূত হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই নিঃশব্দ ‘মুভ’ নিয়ে দারুণ চর্চা চলছে নেট দুনিয়াতে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ

Advertisement

যখন হরমুজ প্রণালীতে ইরানের মাইন হামলার ভয়ে বিশ্ব তেলের বাজার কাঁপছে, ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পাড়ি জমালো আমেরিকার দুটি বিশেষায়িত যুদ্ধজাহাজ। রোববার মালয়েশিয়ার পেনাং বন্দরে দেখা মিলেছে ইউএসএস তুলসা এবং ইউএসএস সান্তা বারবারার। বাহরাইনের ঘাঁটি ছেড়ে এই জাহাজ দুটির হঠাৎ মালয়েশিয়ায় আবির্ভাব এখন বড় এক সামরিক রহস্য।

হরমুজ ফেলে রেখে পেনাংয়ে নজর: এই জাহাজ দুটি সাধারণ কোনো যুদ্ধজাহাজ নয়; এগুলো লিত্তোরাল কমব্যাট শিপ, যা মূলত সমুদ্রের নিচে লুকিয়ে থাকা মাইন শনাক্ত ও ধ্বংসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

কয়েক দশক ধরে আমেরিকা বাহরাইনে এই ধরনের জাহাজ মোতায়েন রাখত, যাতে ইরান কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে না পারে। কিন্তু যুদ্ধের এই চরম মুহূর্তে তেহরানের দোরগোড়া থেকে এই ‘মাইন-শিকারি’ জাহাজগুলোকে সরিয়ে নেয়ায় প্রশ্ন উঠেছে- ট্রাম্প প্রশাসন কি তবে মধ্যপ্রাচ্যের চেয়ে এখন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বা দক্ষিণ চীন সাগরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?

বিশ্লেষকদের চুলচেরা বিশ্লেষণ: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্থানান্তর শুধু রুটিন মাফিক কোনো সফর নয়। এর পেছনে থাকতে পারে তিনটি বড় কারণ। তাইওয়ান প্রণালী বা দক্ষিণ চীন সাগরে সম্ভাব্য কোনো সংঘাতের আশঙ্কায় আমেরিকা আগেভাগেই সেখানে মাইনরোধী শক্তি বাড়াতে চাইছে।

হতে পারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা ঝুঁকি নিয়ে হলেও এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ (যেমন মালাক্কা প্রণালী) সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন ট্রাম্প। পুরনো অ্যাভেঞ্জার ক্লাসের জাহাজের বদলে এই নতুন ধরনের জাহাজগুলো কতটা সফল, তা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল, তাই নৌবাহিনী তাদের রণকৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে।

জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন শঙ্কা: বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অপ্রতিসম যুদ্ধের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ‘নেভাল মাইন’। এই সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী অস্ত্র সমুদ্রের নিচে পেতে রাখলে পুরো জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে যেতে পারে। মার্কিন এই দুই জাহাজের অনুপস্থিতি সেই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ওয়াশিংটনের নীরবতা ও ধোঁয়াশা: এখনও পর্যন্ত পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউস থেকে এই জাহাজ বদলের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসেনি। ফলে এটি কি কোনো সাময়িক বিরতি, নাকি পাকাপাকিভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নজর সরিয়ে নেওয়া- তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, পেনাং বন্দরে এই দুই মার্কিন জাহাজের উপস্থিতি বেইজিং-এর জন্য খুব একটা সুখকর বার্তা নয়।

অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, এর মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে : অর্থমন্ত্রী

আমেরিকার এই ‘ডিজাইন চেঞ্জ’ বা রণকৌশল বদল কি ইরানকে আরও সাহসী করে তুলবে? নাকি এটি চীনের জন্য ট্রাম্পের নতুন কোনো ‘সারপ্রাইজ’? পেনাংয়ের জেটিতে নোঙর করা ইউএসএস তুলসা যেন সেই রহস্যেরই এক নীরব সাক্ষী।

তথ্যসূত্র: ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md Elias is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency across digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and reader-focused reporting.