সাহায্যের দরকার নেই

Advertisement
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের মধ্যেই চীন সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সফরের আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে চীনের সাহায্যের প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের। তবে একই সঙ্গে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য, তাইওয়ান ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে যাচ্ছে তার।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্যে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে বেইজিং যাত্রার আগে মঙ্গলবার (১২ মে) সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না, ইরান ইস্যুতে আমাদের কোনো সাহায্য দরকার। একভাবে হোক বা অন্যভাবে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হবে।’

ট্রাম্পের তিন দিনের চীন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান যুদ্ধ ও মূল্যস্ফীতির কারণে তার জনপ্রিয়তা চাপে রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হতো। এতে তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম বেড়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হুমকির মুখে পড়েছে।

চীন সফরের আগে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প কিছুটা পরস্পরবিরোধী বক্তব্যও দেন। তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হবে। সত্যি বলতে, শি জিনপিং এ বিষয়ে তুলনামূলক ভালো ছিলেন’। কিন্তু কয়েক মিনিট পরই তিনি বলেন, ‘আমাদের অনেক বিষয় নিয়ে কথা হবে। সত্যি বলতে, ইরান তার মধ্যে বড় বিষয় নয়, কারণ ইরানকে আমরা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’

ট্রাম্প বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় চীনে পৌঁছাবেন। আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনার পর তিনি হোটেলে যাবেন। এরপর আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং পরদিন শুক্রবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক করবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন তিনি।

গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের পর বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের নেতাদের মধ্যে এটি হবে সরাসরি প্রথম বৈঠক। এছাড়া ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম চীন সফরে যাচ্ছেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটি তার দ্বিতীয় চীন সফর।

চলতি বছরের শেষ দিকে শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরেরও কথা রয়েছে। ট্রাম্প চাইছেন, চীনের সঙ্গে এমন কিছু চুক্তি করতে যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি খাদ্যপণ্য ও বিমান কেনে। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি আলোচনা হবে বাণিজ্য নিয়েই।’

এই সফরে তার সঙ্গে যাচ্ছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক ও অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুকসহ বেশ কয়েকজন মার্কিন ব্যবসায়ী নেতা। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সঙ্গে একটি ‘বোর্ড অব ট্রেড’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে চায়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক মতপার্থক্য কমাতে কাজ করবে।

এর আগে গত বছর ট্রাম্প শুল্ক বাড়ানোর পর যে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, চীন পালটা বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে তা আরও তীব্র হয়। পরে গত অক্টোবরে এক বছরের যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায় দুই দেশ।

এদিকে চীনের দাবি করা স্বশাসিত দ্বীপ তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির মার্কিন পরিকল্পনাও আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বেইজিং এ পরিকল্পনায় অসন্তুষ্ট। গত সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তাইওয়ানের জন্য অনুমোদিত ১১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র প্যাকেজ নিয়েও তিনি শির সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সূত্র: আলজাজিরা

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Arif Arman is a journalist associated with Zoom Bangla News, contributing to news editing and content development. With a strong understanding of digital journalism and editorial standards, he works to ensure accuracy, clarity, and reader engagement across published content.