
নিউজিল্যান্ডে এ ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম বলে সাউথ এশিয়ান মনিটরকে জানায় অকল্যান্ড থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক ডায়াসপোরা। বলা হয় তার বিভিন্ন আপত্তিকর পোস্টের মধ্যে একটি ছিলো ভারতে মুসলমানদেরকে অর্থনৈতিকভাবে বয়কট করাকে তিনি সমর্থন করেন।
এদিকে ইন্ডিয়ান নিউজ পত্রিকায় বলা হয়, কান্তিলাল বাবাভাই পাতিল সামাজিক গণমাধ্যমে পোস্ট দেয়ার জন্য ওয়েলিংটন জাস্টিস অব পিস এসোসিয়েশনের সদস্যপদ হারিয়েছেন। এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান ক্লার্ক পত্রিকাটিকে বলেন যে, তাদের সংস্থা একটি অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে এর সত্যতা পায়। মি. পাতিল এখন আর তাদের সংস্থার সদস্য নন।
জাস্টিস অব পিস হলেন আনপেইড জুডিশিয়াল অফিসার যিনি নিউজিল্যান্ড সরকারের ডকুমেন্টেশন ও বিচার বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ক্লার্ক জানান যে, তার প্রতিষ্ঠান বিষয়টি জাতীয় সংস্থার কাছে পাঠিয়েছে এবং তাদেরকে বিচার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেছে।
বিচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাস্টিস অব পিস পদে মনোনয়ন দেন পার্লামেন্ট সদস্যরা। পরে তার নিয়োগ অনুমোদন করেন গভর্নর জেনারেল।
ইন্ডিয়ান নিউজ জানায় যে, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ক্লার্ক। অভিযোগকারী ইমেইলে পাতিলের ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট পাঠিয়ে বলেন ‘আমরা এটা দেখে আতংকিত।’
ক্লার্ক বলেন, কোভিড-১৯ সঙ্কটের কারণে সরকারের কাজ স্বাভাবিক দ্রুত গতিতে হচ্ছে না। তাই পাতিলের নিয়োগ বাতিল করতে কয়েক দিন লাগবে এবং এটা করবে বিচার মন্ত্রণালয়।
দ্য ওয়্যার পত্রিকার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ক্লার্ক বলেন, পাতিল আর ওয়েলিংটন জেপি এসোসিয়েশেনের সদস্য নন। আপানি যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছেন, সেটা এখন বিচার মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।
এক সম্পাদকীয় নোটে পত্রিকাটি দু:খ প্রকাশ করে বলে যে, ভারতীয় বংশোদ্ভুতদের দ্বারা ইসলামোফোবিক পোস্ট দেয়ার বাতিক এখন নিউজিল্যান্ডেও পৌছে গেছে।
এতে আরো বলা হয়, বিগত কয়েক মাসে মধ্য প্রাচ্য এমনকি কানাডা থেকেও বেশ কিছু খবর আসে যে, ভারতীয় বংশোদ্ভুত লোকজন অনলাইনে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে। যে কারণে তাদেরকে শাস্তি পেতে হচ্ছে। সেটা এখন নিউজিল্যান্ডে ঘটলো। যা খুবই দুঃখজনক। অথচ ঠিক এক বছর আগেই এক ইসলামোফোবিক শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী এ যাবতকালের সবচেয়ে নারকীয় সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল।
কোভিড লকডাউন শুরু হওয়ার আগে নয়া দিল্লিতে তাবলিগি জামাতের এক সমাবেশ থেকে কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে বলে ভারত সরকার অভিযোগ করার পর থেকেই মূলত মুসলমানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মুসলামাদের অপবাদ দিয়ে বহু ভুয়া খবরও ছড়ানো হয়।
পাতিলের ২০১২ সালের জীবনীতে দেখা যায়, তিনি একজন কমিউনিটি নেতা। তিনি তার কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অনেক পদক পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০০৪ সালে পাওয়া কুইন্স সার্ভিস পদকও রয়েছে। এখনকার কৃতকর্মের জন্য পাতিলকে নিউজিল্যান্ডের অনারারি এসাইনমেন্ট থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



