Advertisement

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাস মহামারির কারণে থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ঘরে বন্দী কোটি কোটি মানুষ, বন্ধ ব্যবসা-বাণিজ্য, ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে বেকারের সংখ্যা। ভয়াবহ এই অবস্থা প্রায় সব দেশেই। করোনার উৎস চীনেও এর ব্যতিক্রম নয়। ধারণা করা হচ্ছে, করোনা সংকটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে ইতোমধ্যেই বেকার হয়েছেন অন্তত আট কোটি মানুষ। শিগগিরই এ তালিকায় যোগ হতে যাচ্ছেন আরও ৯০ লাখের মতো।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, চীনে মোট কতজন বেকার হয়েছেন তার প্রকৃত সংখ্যা জানা বেশ কঠিন। এসব তথ্য প্রকাশে বরাবরই অনীহা রয়েছে বেইজিংয়ের।

চীনের সরকারি হিসাবে, গত কয়েক বছরে সেখানে বেকারত্বের হার চার শতাংশের কাছাকাছি থেকে পাঁচ শতাংশের ওপর উঠেছে মাত্র। তবে এই পরিসংখ্যানে কেবলমাত্র শহুরে চাকরিজীবীদেরই হিসাবে ধরা হয়, গ্রামাঞ্চলের শ্রমিকরা এতে অন্তর্ভুক্ত নেই।

তারপরও চীনের সরকারি হিসাবেই করোনা মহামারিতে তাদের বেকারত্বের হার বৃদ্ধি দেখা গেছে যথেষ্ট। গত মার্চে চীনে বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ, এর আগের মাসেই তা ছিল রেকর্ড ৬ দশমিক ২ শতাংশ। সিএনএন বিজনেসের হিসাবে, চীনের সরকারি এই তথ্যমতে অন্তত ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

এক অভূতপূর্ব সমস্যা
বেইজিংয়ের দেয়া হিসাবে গ্রামাঞ্চল তো বটেই, চীনে কর্মরত ২৯ কোটি অভিবাসী শ্রমিকের অবস্থাও বিবেচনায় আনা হয়নি। তাদের গোনায় ধরলে মার্চের শেষ নাগাদ দেশটিতে অন্তত আট কোটি মানুষ বেকার হয়েছেন বলে ধারণা করছেন চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতিবিদ ঝ্যাং বিন।

অন্য বিশেষজ্ঞদের মতেও, চীনে আট কোটি মানুষ বেকার হওয়া বাস্তবতার সঙ্গে যথেষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এই হিসাব সঠিক হওয়া মানে চীনের অন্তত ১০ শতাংশ কর্মী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

আরও বিপদ সামনে!
কয়েক মাসেই চীনে আট কোটি মানুষ বেকার হয়েছেন, তবে এই বিপদ এখনও শেষ হয়নি। চলতি বছরই দেশটিতে রেকর্ড সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গ্রাজুয়েট হয়ে বের হচ্ছেন। এ বছর এদের সংখ্যা দাঁড়াতে পারে অন্তত ৮৭ লাখ। ফলে শিগগিরই চীনে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতোমধ্যেই সীমিত হারে অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেছে চীন। তবে এতে পুরনো গতি ফিরে পেতে আরও বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

চীন সরকার তাদের অর্থনৈতিক সংকটের তথ্যগুলো খুব একটা প্রকাশ করে না। তারপরও কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, করোনার ধাক্কায় এ বছর এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হচ্ছে চীনে। এছাড়া ১৯৭৬ সালের পর প্রথমবার সংকুচিত হচ্ছে দেশটির অর্থনীতি।

ছাটাই প্রবণতা
সিএনএনের দাবি, করোনা সংকটে চীনে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে এমন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে।

চীনা ইনস্টিটিউট ফর এমপ্লয়মেন্ট রিসার্চ ও ঝাওপিন ডটকমের (চীনের বৃহত্তম চাকরির সন্ধানদাতা ওয়েবসাইট) জরিপে দেখা গেছে, দেশটিতে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকের তুলনায় ২০২০ সালের প্রথম তিন মাসে চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত হয়েছে অন্তত ২৮ শতাংশ। বিপরীতে চাকরিপ্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় নয় শতাংশ।

মিডিয়া গ্রুপ কাইজিন ও গবেষণা সংস্থা মারকিট জানিয়েছে, চীনে চাকরির প্রায় অর্ধেকই রয়েছে সেবা খাতে। গত এপ্রিলে রেকর্ড সংখ্যক কর্মী ছাটাই হয়েছে এই খাতে।

এসব নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত মাসে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর মুখপাত্র মাও শেংইয়ং জানিয়েছিলেন, চীনের শ্রমবাজার যথেষ্ট চাপের মুখে রয়েছে। তবে তার দাবি, সার্বিক চাকরির ক্ষেত্র এখনও ‘স্থিতিশীল।’

সূত্র: সিএনএন

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.