কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপের কাছে বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ৬ হাজার কেজি ওজনের সামুদ্রিক ‘লাল কোরাল’ মাছ। একটি জালে বিপুল পরিমাণ এই মাছ ধরা পড়ায় জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ দেখা দিয়েছে। ওই মাছ প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে মাছবোঝাই ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালী ফিশারি ঘাটে পৌঁছায়।
সূত্র বলছে, টেকনাফ সদরের কেরনতলী এলাকার মিজানের মালিকানাধীন একটি ট্রলার ও একটি নৌকা ২১ জন মাঝিমাল্লা নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালে মাছ ধরতে সমুদ্রে যায়। পরদিন ২৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরে জেলেরা বড় একটি মাছের ঝাঁক দেখতে পান। পরে চারদিক থেকে জাল ফেললে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল মাছ জেলেদের শিকারে পরিণত হয়।
জেলেদের তথ্যমতে, ধরা পড়া মাছের সংখ্যা এক হাজারের বেশি এবং প্রতিটি মাছের ওজন আনুমানিক ৫ থেকে ৭ কেজি। সব মিলিয়ে মোট ওজন প্রায় দেড়শ মণ, অর্থাৎ প্রায় ৬ হাজার কেজি।
স্থানীয় সুতর জানিয়েছে, ফিশারি ঘাটে পৌঁছানোর পর স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা দরে মাছগুলো কিনে নেন। এতে বিক্রি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসা করছি। কিন্তু এক জালে এত লাল কোরাল মাছ ধরা পড়া সত্যিই বিরল ঘটনা।
তিনি বলেন, মাছগুলো বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে গাড়িযোগে ঢাকা যাত্রাবাড়ী, কারওয়ান বাজার, আব্দুল্লাহপুর কাঁচা মাছের আড়তে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, মৌসুমের শেষ দিকে এই ধরণের বড় ঝাঁক ধরা পড়া বিরল হলেও এটি তাদের জন্য বড় অর্থনৈতিক সাফল্য এনে দিয়েছে।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, সাগরে বড় আকারের লাল কোরাল মাছ ধরা পড়া জেলেদের জন্য ইতিবাচক দিক এবং এটি সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যের একটি ইঙ্গিত বহন করে। তবে সামুদ্রিক সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা ও টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে মাছ ধরার বিষয়ে আমরা জেলেদের নিয়মিত সচেতন করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত নৌযান ব্যবহার, নিষিদ্ধ জাল পরিহার, ছোট আকারের মাছ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে মাছের প্রজনন বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ সম্ভব হয়। একই সঙ্গে জেলেদের নিরাপদে মাছ আহরণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, লাল কোরাল মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো লুটজানাস আর্জেনটিম্যাকুলেটাস,যা বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর ও উপকূলে বিচরণ করে থাকে। এটি “লাল কোরাল” নামে সবচেয়ে বেশি পরিচিত একটি প্রজাতি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


