Close Menu
iNews
  • Home
  • Bangladesh
  • Business
  • International
  • Entertainment
  • Sports
  • বাংলা
Facebook X (Twitter) Instagram
iNews
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • শিক্ষা
  • আরও
    • লাইফস্টাইল
    • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
    • বিভাগীয় সংবাদ
    • স্বাস্থ্য
    • অন্যরকম খবর
    • অপরাধ-দুর্নীতি
    • পজিটিভ বাংলাদেশ
    • আইন-আদালত
    • ট্র্যাভেল
    • প্রশ্ন ও উত্তর
    • প্রবাসী খবর
    • আজকের রাশিফল
    • মুক্তমত/ফিচার/সাক্ষাৎকার
    • ইতিহাস
    • ক্যাম্পাস
    • ক্যারিয়ার ভাবনা
    • Jobs
    • লাইফ হ্যাকস
    • জমিজমা সংক্রান্ত
iNews
Home জৈবিক উপাদান সুখী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
সম্পাদকীয়

জৈবিক উপাদান সুখী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ

By Saiful IslamAugust 21, 20228 Mins Read

ড. মামুনুর রশীদ : এই পৃথিবীতে সবাই সুখী হতে চায়। সবাই নিজের জীবনে সুখ এবং আনন্দ উপভোগ করতে চায়। সুখী হওয়ার জন্য ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষের জীবনে চেষ্টার কোনো কমতি থাকে না। যে ধনী, যার অর্থ-বিত্ত, ধন-স¤পদ সবই আছে সেও যেমন সুখী হতে চায়, আবার যে গরিব, যার সহায়-স¤পদ কিছুই নেই সেও সুখী হতে চায়। আবার অনেকেই নিজের স্বার্থহীন ভালোবাসা আর ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে প্রিয়জন, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-পড়শী, বন্ধু-বান্ধবের সাথে সুখ এবং আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চায়। প্রিয়জনের এই ভালোবাসা আর ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে পরিবারে একে অন্যকে সুখী ও আনন্দমুখর রাখার প্রচেষ্টা সমাজে অনেক মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। পারিবারিক এবং সামাজিক অটুট বন্ধন এই সব ক্ষেত্রে গুরুপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। মানবসেবার মাধ্যমে এবং অন্যকে সুখ ও আনন্দ উপভোগ করতে সাহায্য করার মাধ্যমে অনেক মানুষ নিজের সুখ খুঁজে ফেরে। পার¯পারিক বন্ধন এবং ভালোবাসা সমাজে একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, কর্তব্যপরায়ণ এবং দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করে। স্বামী-স্ত্রীর, পরিবারের সদস্যদের এবং বন্ধুদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী, ইতিবাচক, এবং মজবুত স¤পর্ক বা বন্ধন সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক, শারীরবৃত্তীয় এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে। দৃঢ় সামাজিক বন্ধন মানুষকে একাকিত্ব, বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা থেকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে এবং এর ফলে মানুষ সন্তুষ্ট, সুখ ও আনন্দ উপভোগ করে থাকে। সামাজিক বন্ধনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে (যেমন, বৈবাহিক সমস্যা, দ্বন্দ্ব, বিচ্ছিন্নতা, অবহেলা) মানুষের মানসিক এবং শারীরিক সুস্থতার উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং এর ফলে মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, অহংকার পরিলক্ষিত হতে পারে। নেতিবাচক সামাজিক স¤পর্কের কারণে সমাজে অশান্তি, হানাহানি, মারামারি এবং সামাজিক অবক্ষয় হয়ে থাকে। মজবুত সামাজিক বন্ধন পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রে সকল নারিগকের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে সুখ, শান্তি এবং আনন্দ প্রদান করতে পারে। পরিবারে, সমাজে এবং রাষ্ট্রে অসহায়, দরিদ্র, লাঞ্ছিত মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে অপরকে সুখী করা মানবিক গুণাবলির মধ্যে অন্যতম।

এ বছর জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশের তালিকায় আছে ফিনলান্ড। এই নিয়ে পঞ্চম বারের মতো ইউরোপের এই ছোট দেশটি বিশ্বের সুখী দেশের তালিকায় প্রথম হলো। এর পরেই সুখী দেশের তালিকায় উপরের দিকে আরো আছে ডেনমার্ক এবং আইসল্যান্ড। ১৫০টিরও বেশি দেশের মধ্যে সুখী দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৯৪তম। অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে কম সুখী দেশের তালিকায় আছে আফগানিস্তান। সুখী দেশের তালিকা করার ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানবিদরা গ্যালাপ ওয়ার্ল্ড পোল (সূচক: আইন-শৃঙ্খলা, খাদ্য ও আশ্রয়, প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো, ভালো চাকরি, সুস্থতা এবং মেধা লাভ) থেকে প্রাপ্ত ডেটা এবং পাশাপাশি প্রতিটি দেশের মানুষের ব্যক্তিগত সুস্থতার অনুভূতি, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, জিডিপি ও দুর্নীতির মাত্রা, আয়ু এবং আরও অনেক কিছুসহ অন্যান্য বিষয়ের উপর ভিত্তি করে র‌্যাঙ্কিং তৈরি করে। আমেরিকান বিজনেস ম্যাগাজিন ‘ফর্বোস’ এর সাথে সাক্ষাতে ফিনল্যান্ডের আল্টো ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ র্ফ্যাঙ্ক মার্টেলাকে (যিনি একজন দার্শনিক এবং ‘এ ওয়ান্ডারফুল লাইফ-ইনসাইটস অন ফাইন্ডিং এ মিনিংফুল এক্সপেরিয়েন্স’ বইয়ের লেখক) প্রশ্ন করেছিলেন, ফিনল্যান্ড এত সুখী কেন? মার্টেলা উত্তরে বলেছিলেন, জীবনের সন্তুষ্টি উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে এবং কতটুকু তাদের নাগরিকদের যত্ন নেয় ও সুরক্ষা দেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ডেল্লি ফেভ এবং তার গবেষকদল ২০১১ সালে সোশ্যাল ইন্ডিকেটরস রিসার্চ জার্নালে উল্লেখ করেন, সুখ হলো একটি আবেগ, যা বিভিন্নজন বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন এবং যার বিভিন্ন মাত্রা রয়েছে। অন্যদিকে যস্মিতা মারিয়া ডিসুজা এবং তার সহযোগীগণ ২০২০ সালে জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল এন্ড ডায়াগনস্টিক রিসার্চে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেন, সুখ একটি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, যা মস্তিষ্কের বিশেষজ্ঞ কোষ দ্বারা নির্দিষ্ট রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণের ফলে অনুভূত হয়। যে নির্ধারকগুলি সুখ প্রদান করে থাকে সেগুলি হলো জৈবিক, জ্ঞানীয়, আচরণগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি। এর মধ্যে জৈবিক কারণগুলি হলো এন্ডোজেনিক (দেহের ভিতরের) উপাদান, যা মানুষের সুখকে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে। সুখ ও মঙ্গলের জন্য অনুসন্ধান একটি ঐক্যবদ্ধ মানব অভিপ্রায় এবং বিশ্বস্তরে মানব সম্প্রীতি সৃষ্টির ভিত্তি। সুখী লোকেরা তাদের সামাজিক স¤পর্ক, পেশা এবং সামগ্রিক সুস্থতায় সফলতা লাভ করে থাকে। একাধিক গবেষণা এবং অনুসন্ধানে জানা গেছে, সুখী হওয়া জেনেটিক্যালি কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত হয়, অন্যদের ক্ষেত্রে, এটি আয়, শিক্ষা ইত্যাদির মতো পরিবেশগত কারণগুলির দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে। আমাদের মস্তিষ্কের কিছু অংশ (অ্যামিগডালা, লিম্বিক সিস্টেম এবং হিপ্পোক্যা¤পাস) থেকে নিঃসৃত কিছু হরমোন/নিউরোট্রান্সমিটার যেমন, ডোপামিন, সেরোটোনিন, অক্সিটোসিন, এন্ডোরফিনস, ইত্যাদি সুখ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়াও, মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্য মানুষকে সুখী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত যে, সুখ এবং আনন্দ লাভ করতে হলে মানুষের জৈবিক উপাদান এবং স্বাস্থ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সুতরাং, এটা ¯পষ্ট যে সন্তুষ্টি বা সুখ এক বা দুটি কারণের উপজাত নয়, বরং বিভিন্ন উপাদানের সংমিশ্রণ। সুখকে উন্নীত করতে হলে বহিরাগত কারণের (আচরণগত, ভৌগোলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং জীবনের অভিজ্ঞতা) পাশাপাশি জৈবিক কারণগুলিও (হরমোন বা নিউরোট্রান্সমিটার, জেনেটিক ফ্যাক্টর এবং নৃতাত্ত্বিক শ্রেণিকরণ) অন্যতম। নিচে জৈবিক কারণগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হরমোন বা নিউরোট্রান্সমিটারের (সেরোটোনিন, ডোপামিন, অক্সিটোসিন এবং এনডরফিনস) ভূমিকা তুলে ধরা হলো।

সেরোটোনিনকে ‘হ্যাপি হরমোন’ বা ‘সুখী হরমোন’ বা ‘আত্মবিশ্বাসের অণু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা সন্তুষ্টি, সুখ এবং আশাবাদের ক্ষেত্র তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত, সেরোটোনিন নিঃসৃত হয় যখন কেউ ভালো কিছু অনুভব করে। বিচ্ছিন্নতা বা বিষণ্নতার সময়, সেরোটোনিনের মাত্রা কম থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, অবৈধ বা প্রতিকূল কার্যকলাপের সাথে সেরোটোনিন মাত্রা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সেরোটোনিনের নিম্ন মাত্রার কারণে উদ্বেগ, ভয়, আতংক, হতাশা এবং বিষণ্নতার মতো রোগ তৈরি হয় । বিষণ্নতার ফলে মানুষের মনে নেতিবাচক (মন খারাপ, দুঃখ, ইত্যাদি) প্রভাব পরিলক্ষিত হয় যা পরবর্তীতে করুণ পরিণতি ডেকে আনে এবং মানুষকে নিঃশেষ করে দেয় তিলে তিলে। সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ানোর চারটি উপায় হলো সূর্যালোক, ম্যাসেজ, ব্যায়াম এবং সুখী ঘটনা মনে রাখা। প্রতিদিন, প্রায় ১০-১৫ মিনিটের জন্য রোদের সং¯পর্শে থাকা ভিটামিন ডি-এর মাত্রা বাড়াতে পারে, যা সেরোটোনিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। সাঁতার, দ্রুত হাঁটা, জগিং,পর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়াতেও কার্যকর। ম্যাসেজ থেরাপি আমাদের মধ্যে সেরোটোনিন নিঃসরণ করার আরেকটি সাধারণ উপায়। বেশিরভাগ খাবারে (কলা, মটরশুটি, ডিম, ফলমূল, শাকসবজি, ইত্যাদি) সেরোটোনিন থাকে। ট্রিপটোফ্যান, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের মতো পুষ্টি ছাড়া আমাদের শরীর সেরোটোনিন তৈরি করতে পারে না।

ডোপামাইন ‘ফিল-গুড’ হরমোন হিসেবে পরিচিত। এটি আনন্দের অনুভূতি দেয়। যখন কেউ আনন্দ অনুভব করে তখন এই হরমোন কিছু করার অনুপ্রেরণাও দেয়। ডোপামিন মস্তিষ্কের নার্ভের মাধ্যমে শারীরবৃত্তীয় কাজের প্রতিদান তৈরি করে থাকে। এজন্য এটিকে ‘রিওয়ার্ড কেমিক্যাল’ বা ‘পুরস্কার অণু’ বলা হয়ে থাকে। শরীরে ডোপামিন পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলে আনন্দ এবং পুরষ্কারের সাধনা বাড়ায়, যা সুখের জন্য অপরিহার্য। চিনি এবং স্যাচুরেটেড চর্বিযুক্ত খাবারগুলি ডোপামিনকে দমন করতে পারে। খাদ্যে প্রোটিনের ঘাটতি হলে অথবা প্রোটিন তৈরির উপাদান টাইরোসিন এমাইনো এসিডের পরিমাণ কম হলে শরীরে ডোপামিন তৈরির ক্ষমতা কমে যায়। দেহে ডোপামিনের পরিমাণ কমে গেলে পারকিনসন রোগ এবং বিষণ্নতা দেখা দেয়। ডোপামিনের মাত্রা কমে গেলে শরীর ক্লান্ত ও মেজাজহীন হয়ে পড়ে, উৎসাহ এবং উদ্দীপনা হ্রাস পায় এবং অন্যান্য অনেক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। প্রাকৃতিকভাবে ডোপামিনের মাত্রা বাড়ানোর সেরা উপায়গুলো হলো প্রচুর প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট জাতীয় খাবার গ্রহণ, প্রোবায়োটিক গ্রহণ, মটরশুটি খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, গান শোনা এবং ধ্যান করা। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাধারণ ক্রিয়াকলাপ যেমন বাইরে ঘুরতে যাওয়া, কেনাকাটা করা, টিভিতে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখা, প্রকৃতির সাথে সময় কাটানো, বাহিরে রেস্টুরেন্টে খাবার খাওয়া, গান শোনা, সবই ডোপামিন প্রবাহকে বাড়িয়ে দেয়।

অক্সিটোসিনকে ‘কাডল হরমোন’ বা ‘বন্ধন অণু’ বা ‘ভালোবাসার হরমোন’ হিসেবে অভিহিত করা হয় কারণ আমরা যখন আলিঙ্গন করি, কাউকে জড়িয়ে ধরি বা মন থেকে ভালোবাসি তখন এটি নির্গত হয়। অক্সিটোসিনের মাত্রার সাথে মানুষের বন্ধন, বিশ্বাসের বিকাশ এবং সততার একটি সংযোগ রয়েছে এবং মানুষের মধ্যে স¤পর্কগুলোকে সুরক্ষিত করে। জেনেটিক কারণ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা এবং পুষ্টির ঘাটতি অক্সিটোসিনের মাত্রা হ্রাসের সম্ভাব্য কারণ। এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব, হিংসা, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা অক্সিটোসিনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। যাদের অক্সিটোসিন বেশি আছে তারা বেশি সুখী এবং তারা অতিরিক্ত আনন্দদায়ক স¤পর্ক রাখে। স্নেহপূর্ণ আলিঙ্গন এবং ভালোবাসার ¯পর্শ অক্সিটোসিনের নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয় এবং মানববন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে। প্রোটিন, লিপিড, খনিজ পদার্থ, ভিটামিন, ডুমুর, অ্যাভোকাডো, তরমুজ, পালং শাক, গ্রিন টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এই প্রেমের হরমোনের সংশ্লেষণকে বাড়িয়ে দেয়। কম মাত্রার অক্সিটোসিন অনেক ধরনের জটিল মানসিক ব্যাধি তৈরির কারণ হতে পারে যেমন, অটিজম, সিজোফ্রেনিয়া এবং মেজাজ ও উদ্বেগজনিত রোগ। লীবারউথ এবং ওয়াং ২০১৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন নিউরোসাইন্স জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় উল্লেখ করেন অক্সিটোসিন সামাজিক বন্ধন, স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ, এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। একাকীত্ব, ভয়, সঙ্গীর স¤পর্ক এবং যৌন সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে প্রতিকার হিসেবে এটি একটি সর্বজনীন ‘প্রেমের হরমোন’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এন্ডোরফিনকে ‘পেইন-কিলার মলিকিউল’ বা ‘ব্যথা-নাশক অণু’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। কারণ, এই হরমোন ব্যথা উপশম করে এবং সুখকে চালিত করে। এন্ডোরফিন ব্যথার উপলব্ধি কমিয়ে দেয় এবং মরফিনের মতো শরীরে একটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সুতরাং, এন্ডোরফিনকে স্ব-উৎপাদিত মরফিন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। যখন শরীরে ব্যথা বা চাপ অনুভব হয় তখন এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসৃত হয়। এগুলি মস্তিষ্কে উৎপাদিত হয় এবং দেহে বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে। এন্ডোরফিন ব্যথা উপশম করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং মেজাজ উন্নত করতে সাহায্য করে এবং সুস্থতার অনুভূতি দিতে সাহায্য করতে পারে। যাদের এন্ডোরফিনের অভাব রয়েছে তাদের ব্যথা, বিষণ্নতা, মেজাজের পরিবর্তন এবং আসক্তির মতো স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এন্ডোরফিনের অভাবের অন্যান্য প্রভাবগুলির মধ্যে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার লক্ষণ থাকতে পারে, যা এমন একটি অবস্থা যেটা সারা শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা সৃষ্টি করে। এন্ডোরফিন হরমোন ব্যায়াম, যৌনতা, হাসি, নাচ এবং গান শোনার মতো কার্যকলাপের সময় উৎপাদিত হয়। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি এবং ম্যাসেজ থেরাপি এন্ডোরফিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। মশলাদার খাবার যেমন মরিচ এবং সবুজ মরিচ মুখের মধ্যে একটি ব্যথা সংবেদন তৈরি করার মাধ্যমে এন্ডোরফিনের বৃদ্ধিকে প্ররোচিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ডার্ক চকলেট খেলে এন্ডোরফিনের পরিমাণ বাড়তে পারে কারণ এতে কোকো পাউডার এবং ফ্ল্যাভোনয়েড নামক যৌগ থাকে, যা মস্তিষ্কের জন্য এন্ডোরফিনের পরিমাণ বাড়াতে অনুকূল বলে মনে হয়।

এ আলোচনা থেকে এটি বুঝা যায় যে, মানুষের অভ্যন্তরীণ জৈবিক উপাদানগুলো সুখ এবং আনন্দ প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সুখ এবং আনন্দ হলো একটি আবেগ, যা জৈবিক উপাদানের নিঃসরণের মাধ্যমে তৈরি হয়, যা টাকা পয়সা খরচ করে আহরণ করা যায় না, কিন্তু কিছু সাধারণ জিনিস থেকে উদ্ভূত হতে পারে। নিজে সুখ এবং আনন্দ অনুভব করতে না পারলে অন্য কেউ বা কোনভাবেই তাকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। আবার অনেকের বাহ্যিক সবকিছু (অর্থ-বিত্ত, ধন-স¤পদ) থাকার পরেও দেখা যায়, সুখী হতে পারে না। সুখ এবং আনন্দ লাভের কারণগুলি স¤পর্কে আমাদের বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং সুখকে নিয়ন্ত্রণ করে দেহের ভিতর এমন জানা-অজানা পথগুলিকে বিশ্লেষণ করতে হবে।
লেখক: প্রফেসর, ফার্মেসী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।
উপাদান গুরুত্বপূর্ণ জন্য জৈবিক সম্পাদকীয় সুখী হওয়ার
Saiful Islam
  • Website
  • Facebook
  • X (Twitter)
  • Instagram

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.

Related Posts
Iqbal Karim Bhuiyan

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সতর্কবার্তা: ১/১১ এর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে

May 24, 2025

বৈষম্যমুক্ত সমাজ নির্মাণে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন অপরিহার্য

October 16, 2024

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি

June 29, 2024
Latest News
Iqbal Karim Bhuiyan

সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়ার সতর্কবার্তা: ১/১১ এর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে

বৈষম্যমুক্ত সমাজ নির্মাণে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন অপরিহার্য

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি

সবাই শিক্ষিত কেউই অশিক্ষিত নয়

ফেরদাউস আরা বেগম

নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হবে ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণ

মো. ইকবাল হোসেন

আসল সূর্যের কত কাছাকাছি মানুষের তৈরি নিউক্লিয়ার ফিউশনের কৃত্রিম সূর্য

মানুষ ও প্রযুক্তি

ঘরে ঘরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে কেমন হয়

রহস্যঘেরা আলুটিলা গুহা

ভারতীয় ভিসা দুর্লভ কেন?

  • About Us
  • Contact Us
  • Career
  • Advertise
  • DMCA
  • Privacy Policy
  • Feed
  • Authors
  • Editorial Team Info
  • Ethics Policy
  • Correction Policy
  • Fact-Checking Policy
  • Funding Information
© 2026 ZoomBangla Pvt Ltd. - Powered by ZoomBangla

Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.