বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড়োসড়ো এক নাটকের জন্ম দিলো যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও ফিফাকে দেওয়া চাপের মুখে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে সোমবার রাতে সিয়াটলে বেলজিয়ামের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামতে পারবেন ইনফর্ম এই ফরোয়ার্ড।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে গত বুধবার থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে তিনবার ফোন করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, সঠিক কাজটি করার জন্য এবং একটি বড়ো অবিচার সংশোধন করার জন্য ফিফাকে ধন্যবাদ!
ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, তারা ফিফা শৃঙ্খলাবিধির ২৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী তিনি এক বছরের জন্য পর্যবেক্ষণ বা ‘প্রবেশনাল পিরিয়ড’-এ থাকবেন। এই সময়ের মধ্যে একই ধরনের আচরণ করলে শাস্তিটি পুনরায় কার্যকর হবে।
ফিফার এই নাটকীয় সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, লাল কার্ডের সরাসরি শাস্তি এভাবে স্থগিত করা ফিফার নিজস্ব বিধিমালার পরিপন্থি। বেলজিয়াম দল এখন সব ধরনের আইনি বিকল্প খতিয়ে দেখছে। বেলজিয়ামের ম্যানেজার রুডি গার্সিয়া ফিফার এই পদক্ষেপকে ‘এপ্রিল ফুলস ডে’-র রসিকতার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, আমি জানতাম না যে ফিফার কাছে পাঁচ জুলাই মানে এক এপ্রিল। এই সিদ্ধান্ত ফুটবলের সততা ও নৈতিকতাকে নষ্ট করেছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফার এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন অপেশাদার আচরণ বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। ট্রাম্প ও ফিফার এমন কর্মকাণ্ডকে পাড়া-মহল্লার ফুটবল টুর্নামেন্টের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে। ফেসবুকে অনেক বাংলাদেশি ফুটবল ভক্তকে মন্তব্য করতে দেখা গেছে, ‘পাড়া-মহল্লার খেলার কমিটির টিমও কি এমন কাজ করে? যা ট্রাম্প আর ফিফা মিলে করে দেখালো!’ একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়মনীতি এভাবে ভেঙে ফেলায় খোদ দেশের ক্রীড়ামোদীরাও ফিফার সততা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আরও প্রশ্ন উঠছে, খেলার আগেই এমন স্বজনপ্রীতি, মাঠে কী হবে?
অবশ্য মার্কিন কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো ফিফার এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুনকে দেওয়া লাল কার্ডটিকে ‘সম্পূর্ণ অন্যায্য’ দাবি করে তিনি বলেন, যারা খেলাটিকে ভালোবাসেন এবং সততার ওপর আস্থা রাখেন, তারা সবাই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবেন। ডিফেন্ডার ক্রিস রিচার্ডস জানান, অনুশীলনে যাওয়ার পথে টিম বাসে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তারা বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর পান, যা পরে ফেডারেশন নিশ্চিত করে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
গত বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সঙ্গে একটি সংঘর্ষে ভিএআরের সহায়তায় বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। চলতি বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে তিন গোল করা বালোগুনের ফেরা ২০০০ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল এক স্বস্তি নিয়ে এলো।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



