
মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠছে—তরুণ ভোটারদের বড় একটি অংশ ধীরে ধীরে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রতি সমর্থন হারাচ্ছে। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ২০২৫ সালের শুরুতে যেখানে এই বয়সীদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ছিল প্রায় ৪৮ শতাংশ, তা কমে এখন ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশের মধ্যে নেমে এসেছে।
তরুণদের এই হতাশার পেছনে প্রধান কারণ হলো অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের সময় ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জীবনযাত্রার খরচ কমানোর অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে মূল্যস্ফীতি এখনো তরুণদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হিসেবে রয়ে গেছে। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল—জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে; কিন্তু প্রশাসনের মনোযোগ অন্য খাতে বেশি দেখা গেছে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও তরুণদের হতাশা বাড়িয়েছে। কর্মসংস্থানের গতি কমে যাওয়া, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণ মনে করছেন, বর্তমান শ্রমবাজার অনিশ্চিত ও প্রতিযোগিতামূলক, যেখানে চাকরি পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
শুধু অর্থনীতি নয়, ট্রাম্পের রাজনৈতিক আচরণ ও নীতিও তরুণদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ। বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা—এসব বিষয় তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ দেশের স্থিতিশীলতার পরিবর্তে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
একাধিক জরিপে তরুণদের হতাশার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে। অল্পসংখ্যক তরুণ মনে করেন যে দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, আর অধিকাংশের বিশ্বাস—যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে চলছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে তাদের আস্থাও কমে গেছে; অনেকেই মনে করেন, তারা তাদের বাবা-মায়ের তুলনায় আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে যেতে পারবেন না।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নতি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে। কলেজের খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, বরং ব্যয় বেড়েছে। একইভাবে স্বাস্থ্যসেবার খরচও বাড়তে থাকায় তরুণদের ওপর আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নতুন চাকরি সৃষ্টির হার কমে গেছে, এমনকি কিছু খাতে কর্মসংস্থান কমার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। অনেক তরুণ শতাধিক আবেদন করেও চাকরি পাচ্ছেন না—এটি এখন সাধারণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রভাব নিয়েও তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা আশঙ্কা করছে, ভবিষ্যতে প্রযুক্তি অনেক চাকরি কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু এ বিষয়ে কার্যকর নীতির অভাব তাঁদের হতাশাকে আরও গভীর করছে।
সব মিলিয়ে তরুণদের বড় একটি অংশ এখন মনে করছে, ট্রাম্প তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেননি। ফলে রাজনৈতিকভাবে তাঁদের অবস্থান পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে বলা যায়, প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধানই মার্কিন তরুণদের ট্রাম্প থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: গার্ডিয়ান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


