জুমবাংলা ডেস্ক: চট্টগ্রামে আলাদা অভিযানে এমন ছিনতাই চক্রের ২ নারী ও ১১ কিশোর ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন স্থানে গত ৭ মাসে প্রায় ৫০ পথচারী তাদের ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে।
গত ১৬ই নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর গণি বেকারী এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হন অরবিন্দু দত্ত নামে এক ব্যক্তি। সিসি টিভি ফুটেজে দেখা যায় এক নারী সদস্যসহ তিন ছিনতাইকারী তাকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। গত ১৭ই নভেম্বর রাতে সার্সন রোডে সেলিম নামে এক ব্যক্তিকে একই ভাবে ছুরিকাঘাত করে সব লুটে নেয় ছিনতাইকারীরা।
এ ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে তিনজনকে। এর মধ্যে রুপা প্রকাশ নিপা বাসায় কাজের বুয়ার কাজ করতেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হয়ে ছিনতাই করতেন সে।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গত ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরের গনি বেকারি মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন অরবিন্দু দত্ত নামে এক ব্যক্তি। এ সময় ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। গতকাল রাত ৮টার দিকে নগরের চকবাজারের সার্সন রোড দিয়ে যাওয়ার সময় মো. সেলিম নামে আরও এক ব্যক্তি ছিনতাইয়ের শিকার হন। এ ঘটনাতেও ভুক্তভোগীর বুক, পেট ও উরুতে ছোড়া দিয়ে মারাত্মক জঘম করে ছিনতাইকারীরা।
তিনি আরও বলেন, এ দুটি ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করা হলে ঘটনা তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্য-প্রযুক্তির সাহায্যে ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ক্রয়কারী শনাক্তের পর প্রথমে নগরের সিরাজউদ্দৌলা রোড থেকে রুবেল ও তার স্ত্রী ফারজানা বেগমকে এবং তাদের দলের আরও তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আন্দরকিল্লা রাজাপুকুর লেন থেকে পাঁচ কিশোর ছিনতাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে আলাদা অভিযানে আরো এক নারীসহ কিশোর ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা নয়টি ছুরি ও ২৩টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
সিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (দক্ষিণ) পলাশ কান্তি নাথ বলেন, প্রথমে বিষয়টি দেখে আমাদের কাছে মনে হয়, এটি কোনো নারীঘটিত ঘটনা। কিন্তু পরে বুঝতে পারি, এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেয়ার কৌশল। এর প্রেক্ষিতে আমরা অপরাধীদের ধরতে অভিযান শুরু করি। অভিযানে গিয়ে প্রথমে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। যার কাছ থেকে ফোনটি উদ্ধার হয়, তাদের দেয়া তথ্যে আমরা একটি গ্রুপকে ধরি। ওই গ্রুপে এক নারীসহ চার পুরুষ সদস্য আছেন। ধারণা খরি, ওই ঘটনার সঙ্গে তারাই জড়িত। কিন্তু তদন্ত এগুতে থাকলে আমরা নিজেদের ভুল বুঝতে পারি। অর্থাৎ, অপরাধের মূল হোতারা তখনও অধরা।
নগরীতে ছিনতাই চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানায় পুলিশ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


