দুর্ঘটনায় মারা যান প্রথম প্রেমিক। এর পর বলি পরিচালকের কনিষ্ঠ পুত্র থেকে শুরু করে শমিতা শেট্টির সঙ্গে নাম জড়িয়েছিল জামাইবাবুর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরও। নায়িকার ‘প্রেমিকের’ তালিকায় নাকি নাম ছিল ভারতীয় এক ক্রিকেটারের।

শমিতা শেট্টি

Advertisement

বলি নায়িকার বোন ৪৭ বছরেও অবিবাহিতা! এ নিয়ে নিন্দকমহলে কটাক্ষ শুরু হলে কড়া ভাবে জবাব দিয়েছেন শিল্পা শেট্টির বোন শমিতা শেট্টি। তার প্রাক্তন প্রেমিকের তালিকা দীর্ঘ।

৪৭ বছর বয়সে পৌঁছে জীবনসঙ্গীহীন শমিতার দাবি, ‘সিঙ্গল’ জীবন সুখে-শান্তিতেই কাটাচ্ছেন। যদিও সম্পর্ক-সংসার নিয়ে অন্তরে যেন নেতিবাচক ধারণাই পোষণ করেন তিনি। তার নেপথ্যেও নাকি দায়ী শমিতার প্রাক্তন প্রেমিকেরাই।

২০২১ সালে ‘বিগ বস ওটিটি’ রিয়্যালিটি শোয়ে প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন শমিতা। সেখানেই কিশোরী জীবনের প্রথম প্রেমিকের প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। শমিতা জানিয়েছিলেন, গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রথম প্রেমিককে হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। সেই ঘটনার পর বহু দিন নিজেকে সম্পর্ক থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।

বলিপাড়া সূত্রে খবর, পেশাগত কারণে শমিতা এবং উদয়ের পরিবারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তাও গড়ে উঠেছিল। পরে জুটি বেঁধে অভিনয়ের সূত্রে দুই তারকার মধ্যে বন্ধুত্ব আরও গাঢ় হয়ে উঠেছিল। তবে সেই সম্পর্ক নাকি দুই বছরও টেকেনি। ইন্ডাস্ট্রির দুই নবাগত তারকার সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জনও কয়েক মাস পর বাতাসে মিলিয়ে গিয়েছিল।

২০০৩ সালে রামগোপাল বর্মার পরিচালনায় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ‘ডরনা মনা হ্যায়’। এই ছবিতে শমিতার দিদি শিল্পার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন বলি অভিনেতা আফতাব শিবদাসানি। বলিপাড়ার জনশ্রুতি, আফতাব এবং শমিতা সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বটে। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংহের সঙ্গেও নাম জড়িয়ে পড়েছিল শমিতার। ২০১১ সালে যুবরাজের ২৯তম জন্মদিনের পার্টিতে শমিতা উপস্থিত ছিলেন। সেই পার্টিতে তাদের দুইজনকে বেশ হাসিখুশি মেজাজে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছিল। সেখান থেকেই তাদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই কথা কানে গেলে শমিতা খুবই বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। যুবরাজের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছাড়া যে অন্য কোনও রকম সম্পর্ক নেই, তাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন এ অভিনেত্রী।

২০১২ সাল নাগাদ বলিপাড়ায় কান পাতলে শোনা যেত, বলি অভিনেতা হরমন বাওয়েজার সঙ্গে প্রেম করছেন শমিতা। শেট্টি পরিবারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা যেত দুইজনকে। বলিউডের একাংশের দাবি, শিল্পার স্বামী রাজ কুন্দ্রার ভাল বন্ধু হরমন। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও হরমনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন শিল্পা এবং রাজ। সেই সূত্রেই শমিতার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল হরমনের।

২০২৩ সালে অভিনেতা আমির আলির সঙ্গেও শমিতার সম্পর্ক নিয়ে জলঘোলা হয়েছিল। এক পার্টি থেকে শমিতার কোমরে হাত রেখে বেরিয়ে যেতে দেখা গিয়েছিল আমিরকে। পরে শমিতাকে গাড়িতে ওঠানোর সময় তার গালে চুমু খেয়েছিলেন আমির। পুরো ঘটনাটিই ছবিশিকারিদের ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তার পর থেকেই শুরু হয় কানাঘুষা। অবশ্য শমিতা এবং আমির দুইজনেই এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন।

সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে শমিতা লিখেছিলেন, ‘বাস্তবতাবর্জিত এই সমাজের কথাবার্তায় আমি সত্যিই স্তব্ধ! কোনও রকম সত্যতা যাচাই না করেই সকলে যে ভাবে মন্তব্য করতে শুরু করেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। একজন সিঙ্গল এবং স্বাধীন নারী যদি তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করেন, তবে কেন প্রতি বার তার নাম সেই পুরুষের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়? কেন আমরা সঙ্কীর্ণ মানসিকতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছি না?

অন্য দিকে আমির একটি ভিডিও পোস্ট করে বলেছিলেন, একজন ভাল বন্ধু হিসাবে শমিতাকে গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গিয়েছিলাম। তা ছাড়া আমার মা শিখিয়েছেন, কোনো মহিলাকে সব সময় তার গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে। আমি সেটাই করেছি। তার বেশি কিছু নয়। শমিতা আমার খুব ভাল বন্ধু। বর্তমানে সম্পূর্ণ সিঙ্গল ও সুখী রয়েছে সে।

আরও পড়ুনঃ সামান্থার সঙ্গে ‘প্রতারণার’ মিথ্যা রটনা ও ট্রোলিংয়ের বিরুদ্ধে আদালতে নাগা চৈতন্য

পুরনো সম্পর্ক নিয়ে শমিতা ‘বিগ বস্ ওটিটি’-তে থাকাকালীন বলেছিলেন, আমি আজ পর্যন্ত যতগুলো সম্পর্কে জড়িয়েছি, একটিও ভালো ছিল না। কোনো পুরুষই আমায় নিজের সম্পর্কে ভালো অনুভব করায়নি। তার পর থেকে আমি আত্মরক্ষার জন্য নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছি।

সূত্র: আনন্দবাজার

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.