
জুমবাংলা ডেস্ক : গরুর বদলে ঘানি টানতে হাঁড়ভাঙা পরিশ্রম করে মা-মেয়ে। অভাবের সংসার কমলা বেগেমের গরু কেনার সামর্থ ছিল না। মেয়ে কাকলী আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে কাঠের দণ্ডের ওপর ৪০০ কেজি ওজন বাসিয়ে ঘানি টানতেন।
রবিবার (১ আগস্ট) দেশের একটি জনপ্রিয় পত্রিকাতে ‘ঘানিতে মা-মেয়ে’ শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হকের নজরে আসে। তিনি ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিককে নির্দেশনা দেন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে একটি গরু কিনে আজ বৃহস্পতিবার সেই মা কমলা বেগম ও মেয়ে কাকলী আক্তারকে উপহার দিয়েছেন। গরু পেয়ে মা-মেয়ে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
প্রাইভেট পাবলিক পার্টনারশিপ হয়ে ২০ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন কালের কণ্ঠ শুভসংঘের প্রধান উপদেষ্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. হারুন আল মাকসুদ। আজ উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে মা-মেয়েকে গরু উপহার দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক, সহকারী কমিশনার ভূমি দিলরুবা ইসলাম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা মো. হাসান কিবরিয়া, ফিল্ড সুপারভাইজার খান মনিরুস সালেহীন উপস্থিত ছিলেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামের তারা মিয়ার স্ত্রী কমলা বেগম (৪৬) বিয়ের পর থেকে ৩২ বছর যাবত ঘানি টানছেন, তারমধ্যে মেয়ে কাকলী আক্তারকে নিয়ে প্রায় সাত বছর যাবত ঘানি টানছেন।
কমলা বেগম বলেন, বিয়া অওয়ার পর ৩২টা বছর ধইরা নিজে কান্দ লইয়া জোয়াল (ঘানি) টানতাছি, ঝি’ডারে (মেয়ে) লইয়া টানলাম, কেউ আঙ্গর কষ্টডা দেহেনাই। আল্লায় আঙ্গর মিহি চাইছে। সংবাদিক (সাংবাদিক) আঙ্গরে পত্তিকাত উডাইছে, হেইডা দেইক্কা সারেরা (স্যার) গরু কিন্না দিছে। অহন গরু অইছে, আর মায়-ঝিয়ের কষ্ট অইত না।
মেয়ে কাকলী বেগম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, বুঝমান হওয়ার পর থেকে আব্বা-আম্বাকে দেখেছি ঘানি টানতে, শিশু বয়স থেকে নিজেও টানছি। আমাদের কষ্ট দেখে, যারা পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব এবং দোয়া করব।
ডা. হারুন আল মাকসুদ বলেন, প্রতিবেদনটি পড়ে জানতে পেরেছি মা-মেয়ে কষ্টের জীবন সর্ম্পকে, একটি দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি, যাতে তাঁদের আর নিজেদের ঘানি টানতে না হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক বলেন, কালের কণ্ঠে মা-মেয়ের ঘানি টানার প্রতিবেদনটি ডিসি স্যারের নজরে আসলে তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পিপিপি পদ্ধতিতে মা-মেয়েকে গরু কিনে উপহার দিয়েছি। একজন সাংবাদিকের একটি প্রতিবেদনের এখানেই স্বার্থকতা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


