Advertisement
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মানুষের সভ্যতার ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরনো। এখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার কারণে রকেট গতিতে এগিয়ে চলেছে মানুষ। পৃথিবী ছেড়ে আবাস গড়ার চিন্তা চলছে মহাশূণ্যে। এ অবস্থায় এমন কিছু মানুষের সন্ধান মিলেছে যারা কিনা এখনও হাঁটতেই শেখেনি। তারা হাঁটে জানোয়ারদের মতো, চার পায়ে। সামনের দিকে ঝুঁকে মুখটা উপরের দিকে তুলে দু’হাত আর দু’পায়ের সাহায্যে এগিয়ে চলে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেনো কোনো পশু ধীরগতিতে হেঁটে চলেছে।

২০০৫ সালে বিবিসি-র একটি তথ্যচিত্রে প্রথম এই ‘চারপেয়ে মানুষ’দের কথা জানতে পারে সারা বিশ্ব। তাদের কথা জানার পর সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিজ্ঞানীরাও বিস্মিত হয়ে যান। এই মানুষগুলো থাকে তুরস্কের এক গ্রামে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার বিজ্ঞানীদের দল ঘুরে গিয়েছে ওই গ্রামে। রক্তের নমুনা, মস্তিষ্কের স্ক্যান, বাদ যায়নি কোনো পরীক্ষাই। কিন্তু ২০১৪ পর্যন্ত এমন ব্যবহারের সঠিক কোনও কারণ কেউ খুঁজে পাননি।

ওই পরিবারটির বাস তুরস্ক-সিরিয়া সীমানার কিছুটা উত্তরে। বাবা-মাকে নিয়ে পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা ২১ জন। এই ২১ জনের পরিবারের পাঁচ সদস্য অর্থাৎ চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা হলেন-সাফিয়ে, হেসার, সেনেম, এমিন এবং ভাই হুসেইন। তবে বাকি ভাইবোনেরা চার পায়ে না হাঁটলেও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। তাদের বাবা-মা কিন্তু একেবারেই স্বাভাবিক। আর এই পাঁচজন শুধু যে চারপেয়ে তাই নয়, তাদের কোনো কিছু বুঝতে এবং কথা বলতেও সমস্যা হয়। তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেন সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে।

প্রথমে এই পরিবারের খোঁজ পেয়েছিলেন তুরস্কের বিজ্ঞানী উনের ট্যান। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি গবেষণা করলেও তার গবেষণাপত্রটি তখন কোনো জার্নালে প্রকাশিত হয়নি। তার অপ্রকাশিত এই গবেষণাপত্রটি চোখে পড়ার পরই প্রাণীদের বিচিত্র আচরণ নিয়ে কাজ করা এক প্রাণীবিদ বিবিসি-র রিপোর্টার নিকোলাস হাম্পফ্রেকে ফোনে বিষয়টা জানান। বিবিসি তথ্যচিত্র প্রকাশ করলে বিশ্ব এই ঘটনার কথা জানতে পারে।

বিজ্ঞানী উনের ট্যান তার অপ্রকাশিত রিসার্চ পেপারে লিখেছিলেন, এই ঘটনা আসলে বিপরীত বিবর্তনের ফল। অর্থাৎ বিবর্তন হয়ে ক্রমশ যেমন বানর থেকে মানুষের সৃষ্টি এবং ক্রমশ আদিম মানুষ পরিবর্তিত হয়েছে সভ্য মানুষে, এ ক্ষেত্রে হয়েছে ঠিক তার উল্টো।

বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে একে ‘উনের ট্যান সিন্ড্রোম’বলা হয়। উনের ট্যানের দাবি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তা হলে যে কোনও সময়ে যে কোনো পরিবারে এমন ঘটনা কি ঘটতে পারে? সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে উনের ট্যানের গবেষণা।

পরে জানা যায়, উনের ট্যানের এই সূত্র ভুল। ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪— এই সময়কালের মধ্যে বহু গবেষণা হয়েছে ওই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে। অবশেষে সেই গবেষণাতেই আসল কারণ ধরা পড়ে, ২০১৪ সালে। জানা যায়, বিপরীত বিবর্তন নয়, এটা আসলে জিন মিউটেশনের ফল। এটা অতি দুর্লভ একটা রোগ, নাম সেরিবেলার হাইপোপ্লাসিয়া। এই রোগে আক্রান্তদের দেহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে আক্রান্তরা সোজা হয়ে দাঁড়াতেই পারে না। বায়োলজি জার্নাল প্লস-এ এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ওই জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, এসব মানুষেরা চারপেয়ে হলেও তাদের হাঁটার ধরন কিন্তু পশুর মতো নয়। কারণ পশু যখন হাঁটে সামনের ডান ও পিছনের বাঁ পা এক সঙ্গে এবং সামনের বাঁ পায়ের সঙ্গে পিছনের ডান পা সামনে এগিয়ে নিয়ে চলে। তারা কিন্তু তা করেন না। বাঁ হাতের সঙ্গে বাঁ পা-ই এগিয়ে নিয়ে চলেন।

পশুর হাঁটার সঙ্গে এদের হাঁটার আরো অমিল রয়েছে। পশু কব্জির উপর ভর দিয়ে হাঁটে না, বাহুর সঙ্গে আঙুলের সংযোগকারী অংশের উপর ভর দিয়ে হাঁটে। আর তুরস্কের এই মানুষেরা কব্জির উপর ভর দিয়ে হাঁটেন। এ ভাবে দীর্ঘ দিন ধরে হাঁটার ফলে তাদের তালু পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেছে।

পশু না হলেও, আশপাশের লোকজন তাদের সঙ্গে পশুর মতোই ব্যবহার করেন। কখনও তাদের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকে। আরো নানাভাবে বিরক্ত করা হয় এসব মানুষদের। তাই তারা বাড়ি থেকে খুব একটা বাইরে বের হয় না।

অনেক চিকিৎসার পরও ওই পাঁচ ভাইবোনকে রোগমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা এখনও চার পায়েই হাঁটাচলা করে। তাই বাবা-মা তাদের পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তাদের অবর্তমানে কে দেখবে এই অসহায় মানুষগুলোকে?

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.