তেল সংকটে রাজধানীর ডেমরায় মঙ্গলবারেও (১৭ মার্চ) দিনভর কয়েকটি পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। অকটেন ও পেট্রল পর্যাপ্ত না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা।

এদিকে রেশনিং তুলে নেওয়ার পরেও মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেমরায় অধিকাংশ পেট্রল পাম্পে স্বাভাবিকতা পুরোদমে ফিরেনি। এখনো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না পেট্রল পাম্পগুলো। তবে আগের তুলনায় তেল কিছুটা বেশি পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
এক্ষেত্রে গত রোববার রাত থেকে মোটরসাইকেলে একটু বেশি পরিমাণ অকটেন দেওয়া শুরু হয়েছে । এ সময় পাম্পগুলোতে সিরিয়াল দীর্ঘ হয়।
অন্যদিকে মঙ্গলবার দিনব্যাপী ডেমরা-রামপুরা ও ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে তেলবাহী বড় বড় ট্রাক চলতে দেখা গেলেও ডেমরার পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট ডিপোগুলো। ডেমরা কয়েকটি পেট্রল পাম্পের মধ্যে একই নিয়মে কাউকে ডিজেল দিলেও পেট্রল দিয়েছে তার অর্ধেক পরিমাণ। আবার কোনো পাম্পে ডিজেল কিছুটা বেশি দিলেও অকটেন দিয়েছে অর্ধেক। তাই তেল গ্রহীতাদের বাধ্য হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী যেসব পাম্পে জ্বালানি রয়েছে, সেখানে যেতে হয়েছে। এতে করে অনেক গাড়ি একসঙ্গে হওয়ায় প্রধান সড়কেও যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
পাম্প মালিকদের অভিযোগ, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিটি পাম্পে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনসহ ঈদ বোনাস দিতে হবে। তাই আজকালের মধ্যে তেল সরবরাহের সমস্যাটা কমে গেলে আমরা লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারব। ঘোষণায় রেশনিং তুলে নিলেও প্রকৃতপক্ষে এখনো রেশনিং চলমান রয়েছে পাম্পগুলোর ক্ষেত্রে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় মঙ্গলবারেও সিটি পেট্রল পাম্প কিছু সময় খোলা থাকলেও বেশিরভাগ সময় ছিল বন্ধ। একই সঙ্গে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার রাসেল ফিলিং স্টেশন, মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশন ও মুন পেট্রল পাম্পে আগের তুলনায় বিক্রি বাড়লেও দিনভর পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তবে খিলগাঁও থানাধীন নাকদার পাড় এলাকায় কিকো ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একই সঙ্গে ডেমরার মিরপাড়া সিকদার ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে পাম্প চালু করতে পেরেছে সংশ্লিষ্টরা।
রূপগঞ্জের নোয়াপাড়া এলাকা থেকে সিকদার ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের তেল নিতে আসা গ্রাহক মো. মাসুম খন্দকার বলেন, আমি আশা করে রূপগঞ্জ থেকে ডেমরা তেল নিতে এসে দেখি পাম্প বন্ধ। এতে করে তেল নিতে আমার মোটরসাইকেলে যে তেল পুড়েছে, সেটা আরও বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমি জানতাম সিকদার ফিলিং স্টেশনে তেল সবসময় পাওয়া যায়। কিন্তু মঙ্গলবারে দেখলাম দিনভর পেট্রল পাম্প বন্ধ ছিল।
এ বিষয়ে সিকদার ফিলিং স্টেশনের পরিচালক মো. রনি মুন্সি জানান, সোমবার দিনগত রাতে পরিমাণ মতো তেল না পাওয়ায় মঙ্গলবার দিনের বেলায় পেট্রল পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। বর্তমানে তেল বিক্রি করতে পারছিনা বলে আমাদের মোটা অংকের লোকসান হবে যা ওপেন সিক্রেট। কি যে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার মধ্যে পড়েছি বলে শেষ করা যাবে না। সামনে ঈদ অথচ তেল সংকটে টার্গেট বিক্রি করা তো দূরের কথা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়াই মুশকিল হয়ে যাবে।
তেল সংকট ও পেট্রোল পাম্পে বিশৃঙ্খলা নিয়ে ডেমরা থানার ওসি তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, ধীরে ধীরে পেট্রল পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকতা ফিরে আসছে। আগের তুলনায় এখন বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কম। এখনো তাদের তেল সংকট রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


