সাইফুল ইসলাম : বাকিতে মোটর পার্টস না দেওয়ায় মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে প্রাণনাশের হুমকি, দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং লাশ গুম করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মিলন মিয়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শ্রমিকদল থেকে শাহিনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে ব্যবসায়ী মিলন মিয়া জানান, গত ১৮ জুলাই রাত ৮টার দিকে শাহিন তার মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকার হলিগার্ডেন মার্কেটে অবস্থিত ইস্রাফিল মোটরস দোকানে এসে বাকিতে মোটর পার্টস চান। তিনি বাকিতে পণ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিন ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যান।
তিনি আরও জানান, এর আগে একই দিন বিকেলে এক ব্যক্তি শাহিনের নাম পরিচয় দিয়ে তার দোকানে মবিল, ফিল্টারসহ বিভিন্ন মোটর পার্টস বাকিতে নিতে আসেন। তিনি রাজি না হলে ওই ব্যক্তি শাহিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্ত থেকেও শাহিন বাকিতে মাল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে তাকেও গালিগালাজ করা হয়।
মিলনের ভাষ্য, ওই রাতেই শাহিন আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে দোকানের সামনে এসে দাঁড়িয়ে দোকান থেকে বের হলে তাকে হত্যা করার হুমকি দেন। আতঙ্কে তিনি সেদিন রাতে স্বজনদের সহায়তায় বাড়ি ফিরে যান। কিন্তু পরদিন, ১৯ জুলাই সকাল ১১টার দিকে শাহিন আবার দোকানে এসে একইভাবে গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিবাদ করলে শাহিন বলেন, “আমার যা ইচ্ছা আমি তাই করব। তুই যদি বেশি কথা বলিস বা আমাকে বাকিতে মোটর পার্টস না দিস, তাহলে তোকে জানে মেরে ফেলব, তোর লাশ গুম করে দেব।” পাশাপাশি তিনি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও হুমকি দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, পুরো ঘটনাটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলে করে এসে শাহিনকে দোকানের সামনে উত্তেজিত আচরণ করতে এবং দোকান মালিককে উদ্দেশ করে উচ্চস্বরে গালিগালাজ করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে দোকান থেকে বের হলে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ফুটেজে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সোমবার রাতে ব্যবসায়ী মিলন মিয়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
এদিকে অভিযোগ ওঠার পর জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটন প্রথমে দাবি করেন, সংগঠনে শাহিন নামে তিনজন নেতা রয়েছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি তাদের কমিটির কেউ নন। তবে পরে তিনি বক্তব্য সংশোধন করে স্বীকার করেন, অভিযুক্ত মো. শাহিন জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তিনি জানান, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক লিটনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে শাহিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিকদল নেতা মো. শাহিন ব্যবসায়ী মিলনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।”
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



