
শরীয়তপুর : শরীয়তপুরের জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুরে দুই উপজেলায় বৃষ্টির সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তাদের মৃত্যু হয়।
মৃতরা হলেন, জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পাইনপাড়া এলাকার আলতু মাঝির মেয়ে আমেনা বেগম ও একই উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক নির্মাণ শ্রমিক। তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি গ্রামের নেছার উদ্দিন মাঝির স্ত্রী কুলসুম বেগম মারা গেছেন।
স্থানীয় জানান, বৃষ্টির মধ্যে মায়ের খোঁজ করতে গিয়েছিলেন আমেনা বেগম। ফসলি মাঠের মধ্য দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে মাকে খুঁজছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাতে মারা যান আমেনা বেগম। স্থানীয় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল আমেনা বেগমের। তার দুই বছরের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের ওসি শেখ শরীফুল আলম বলেন, বজ্রপাতে এক নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা এসে প্রতিবেদন দিলে বিস্তারিত বলা যাবে।
অন্যদিকে জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এলাকায় বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় কাজ করতে ছিলেন এক নির্মাণ শ্রমিক। এ সময় বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়। তার বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাজিরা ইউএনও সাদিয়া ইসলাম লিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ছাড়া জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার চরসেনসাস ইউনিয়নের বেড়াচাক্কি গ্রামে সয়াবিন ক্ষেতে কাজ করছিলেন নেছার উদ্দিন মাঝি। দুপুরে তার স্ত্রী কুলসুম বেগম স্বামীর জন্য দুপুরের খাবার ভাত নিয়ে গিয়েছিলেন সয়াবিন ক্ষেতে। এ সময় ঝড়সহ বজ্রপাত শুরু হলে বজ্রপাতে কুলসুম বেগম মারা যান।
চরসেনসাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিএম আনোয়ার হোসেন বলেন, দুপুরে বজ্রপাতে কুলসুম বেগম নামে এক কৃষাণীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সারা দেশে ঝড়বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত শুরু হয়। সকলের সতর্ক থাকা উচিত।
সিলেট : সিলেটের কানাইঘাটে মাঠে গরু চরাতে গিয়ে বজ্রপাতে মাহতাব উদ্দিন মাতাই (৪৫) নামে এক ওমান প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার দীঘিরপার ৩নং পূর্ব ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মাহতাব উদ্দিন মাতাই উপজেলার দর্পনগর পশ্চিম করচটি গ্রামের রফিকুল হকের ছেলে। তিনি ওমান প্রবাসী ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট থানার ওসি জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার। তিনি বলেন, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাহতাব উদ্দিন সুরমা নদী তীরবর্তী মাঠে গরু চরাতে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় নিজ বাড়ির পাশে মাছ ধরতে গেলে বজ্রপাতে মারা যায়।
স্থানীয়রা জানান, সকাল থেকেও বৃষ্টির সাথে সাথে বজ্রপাত শুরু হয় এ সময়ে ছনোয়ার মিয়ার ছেলে সমুজ মিয়া (৩০) জমির সাথে ছড়ায় মাছ ধরতে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সমুজ মিয়া মারা যান। সে সদ্য বিবাহিত। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।
পতনঊষার ইউপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ খাঁন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সদ্য বিবাহিত সমুজ মিয়ার মৃত্যুতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও সাহেব সহায়তার কথা জানিয়েছেন।
নেত্রকোনা : নেত্রকোনার আটপাড়ায় বোরো জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. দিলওয়ার মিয়া (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার স্বরমুশিয়া হাওরে এ ঘটনা ঘটে। দিলওয়ার মিয়া উপজেলার স্বরমুশিয়া গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে।
আটপাড়া থানার ওসি মোহাম্মদ তাওহিদুর রহমান বলেন, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে দিলওয়ার নিজের জমির ধান কাটতে হাওরে যান। এ সময় বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আটপাড়া ইউএনও এম সাজ্জাদুল হাসান বলেন, নিহত কৃষকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
ফরিদপুর : ফরিদপুরের মধুখালীতে বজ্রপাতে মুরাদ মল্লিক (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরেক কৃষক। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কামালদিয়া ইউনিয়নের মীরেপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মুরাদ মল্লিক কামালদিয়া ইউনিয়নের মীরেপাড়া গ্রামের লকাই মল্লিকের ছেলে। আহত কৃষকের নাম মো. কামরুজ্জামান (৪৫)। তিনি কামালদিয়া ইউনিয়নের মীরের কাপাষহাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
কামালদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ওয়ালিদ হাসান বলেন, দুই কৃষক মীরেপাড়া গ্রামের একটি ক্ষেতে কাজ করছিলেন। এ সময় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুরাদ মল্লিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক কবির সরদার বলেন, মুরাদ মল্লিককে মৃত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। আহত কামরুজ্জামানকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বাহুবলে সোমবার সকালে বজ্রপাতে দানিছ মিয়া (৫৫) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত দানিছ মিয়া সাতপাড়িয়া গ্রামের রহিম উল্লাহর ছেলে।
জানা যায়, হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সাতপাড়িয়া গ্রামে বাড়ির পাশের জমি থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে দানিছ মিয়া নামে (৫৫) মৃত্যু হয়। দানিছ উপজেলার চলিতাতলা মাদ্রাসার শিক্ষক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাহুবল থানার ওসি মোঃ মশিউর রহমান জানান, সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বজ্রপাতে হালেমা খাতুন (৪৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়।
এদিকে, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ২.২ মিলিমিটার। সেখানে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড করা হয় ৫২ মিলিমিটার। দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নিবাস দেবনাথ।
তিনি জানান, সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ৫৯ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। তন্মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টায় ২৮ মিলিমিটার ও সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১০ মিলিমিটার পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাত, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার পর্যন্ত মাঝারি বৃষ্টিপাত, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার পর্যন্ত মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার ভারী এবং এর বেশি বৃষ্টি হলে তাকে অতিভারী বৃষ্টিপাত বলা হয়।
এরআগে গত ৪ এপ্রিল ও ৩১ মার্চ সিলেটে হঠাৎ কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়। ওই সময়ে শিলাখণ্ডের আঘাতে নগরীর অনেক বাসাবাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়। যানবাহনেরও বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



