
আজ দলের এক বৈঠকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে অতীশির নাম প্রস্তাব করেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পরে দলের বাকি সদস্যরা এতে সম্মতি দেন। এখন প্রশ্ন হলো কে এই অতীশি মারলেনা, আম আদমি পার্টির বড় বড় নেতাদের পেছনে ফেলে তিনি কীভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিজের করলেন, আপের রাজনীতিতে তার উত্থান টা-ই বা কীভাবে হলো?
৪৩ বছর বয়সী অতীশি এখন দিল্লি সরকারের শিক্ষা ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দিল্লির ক্ষমতাসীন দল আপের ভেতরে বিশাল পরিবর্তন দেখা দিলে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় এসে পড়েন। মূলত প্রবীণ নেতা মনীশ সিসোদিয়া ও সত্যেন্দ্র জৈন আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পদত্যাগ করেন। সিসোদিয়া ও জৈনের গ্রেপ্তার ও পদত্যাগের দলে নেতৃত্বে শূন্যতা দেখা দেয়।
রোডস স্কলার এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রী অতীশির শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি সরকারি কাজে তার অভিজ্ঞতা তাকে সুপরিচিত করেছে, বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে। দিল্লির শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম স্থপতি হিসেবে তিনি আপের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনিই দিল্লির সরকারি স্কুলগুলোর উন্নতি ঘটান। কেজরিওয়াল প্রশাসনের অন্যতম সাফল্য ছিল এটি।
দিল্লি মদ নীতি সম্পর্কিত এক মামলায় জড়িয়ে সিসোদিয়া পদত্যাগ করলে কালকাজি থেকে নির্বাচিত বিধায়ক অতীশি ২০২৩ সালের মার্চ মাসে দিল্লির মন্ত্রিসভায় যোগ দেন। তারপর থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পগুলো সামলনোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এমনকি কেজরিওয়ালের আইনি সমস্যার সময় প্রায়ই দলের প্রকাশ্য মুখ হিসেবে কাজ করেন অতীশি।
কেজরিওয়ালের আইনি সমস্যার সময়ে ২০২৩ সালের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় দিল্লি সরকারের অফিসিয়াল অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য অতীশিকে বেছে নেয়া হয়। যদিও দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর ভি কে সাক্সেনা সেই পরিকল্পনা স্থগিত করেন।
অতীশি তার ক্যারিয়ার শুরু করেন তৃণমূল স্তরের সংগঠনের সঙ্গে কাজ করে। তারপর তিনি আপে যোগ দিয়ে দ্রুত সামনে অগ্রসর হতে শুরু করেন। শিক্ষা সংস্কারক হিসেবে তার ভূমিকা তাকে জাতীয় স্বীকৃতি এনে দেয়। দিল্লির পানি সংকট ও নারীদের সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে তিনি জনসম্মুখে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



